


সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: দুপুর গড়িয়ে গেলেও পঞ্চায়েত বন্ধ। আসেননি কোনো কর্মী। দেখা নেই প্রধানেরও। জন্ম-মৃত্যু ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নেওয়া সহ বিভিন্ন কাজে এসে ঘুরে যেতে হচ্ছে অনেককে।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বাম-কংগ্রেস পরিচালিত মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এই অনিয়ম দেখে সোমবার অফিসের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগীরা। পরে প্রধান পঞ্চায়েতে আসেন। বাম-কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান সিপিএমের মৌসুমী দাস। ২০ জন সদস্য রয়েছেন। অভিযোগ, পঞ্চায়েত কর্মী, সেক্রেটারি, নির্মাণ সহায়ক ও এগজিকিউটিভরা নিয়মিত আসেন না। ঠিক সময়ে খোলা হয় না পঞ্চায়েত অফিসও। এমনকি প্রধানকেও পাওয়া যায় না সেখানে। বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা খালেদা বিবি বলেন, স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট তুলতে এদিন সকাল সাড়ে দশটায় পঞ্চায়েতে আসি। অফিস বন্ধ থাকায় দু’ঘণ্টা বাইরে বসে থাকতে হয়েছে। একমাস ধরে ঘুরলেও কাজ হচ্ছে না।
আলিনগর গ্রামের মহম্মদ আনিসের কথায়, খেয়ালখুশি মতো পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন প্রধান ও কর্মীরা। যার ফলে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। পঞ্চায়েত কর্মীরা নিয়মিত আসেন না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত ব্লক প্রশাসনের।
পঞ্চায়েত সদস্য তথা সঞ্চালক রুবেদা খাতুনের স্বামী জুলফিকার আলমের অভিযোগ, একাধিকবার প্রধান ও কর্মীদের সময় মতো পঞ্চায়েত অফিস খুলতে বললেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এদিন পঞ্চায়েত বন্ধ দেখে প্রধানকে ফোন করি। তারপর দুপুরে পঞ্চায়েত অফিস খোলেন তিনি। তবে, কোনো কর্মী আসেননি।
পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ ভোলানাথ হালদার বলেন, আমাকে ১০০ কিলোমিটার দূরের মালদহ থেকে আসতে হয়। মা অসুস্থ থাকায় কয়েকদিন পঞ্চায়েতে যেতে পারিনি। তবে, প্রধানকে সেকথা জানিয়েছি। প্রধানের মন্তব্য, কিছু পঞ্চায়েত কর্মী ব্লকে এসআইআরের কাজ করছেন। তাই তাঁরা আসছেন না। নির্মাণ সহায়ক ও এগজিকিউটিভকে নিয়মিত আসতে বলেছি। মাঝেমধ্যে তাঁরাও আসছেন না। এদিন এসআইআরের কাজের জন্য পঞ্চায়েত অফিস ঠিক সময়ে খুলতে পারিনি।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এর বিডিও সৌমেন মণ্ডল বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।