সংবাদদাতা, তেহট্ট: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সকলের নাম রয়েছে। ইনিউমারেশন ফর্ম সকলেই পেয়েছেন। সকলেই সেই ফর্ম পূরণ করে বিএলও-র কাছে জমাও দিয়েছেন। অথচ একটি বুথের ৪৯১ জনের নথি মিলছে না বলে হেয়ারিংয়ের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনা তেহট্ট-১ ব্লকের পলাশীপাড়া বিধানসভার চাঁদেরঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৫ নম্বর বুথের। ওই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১৭৬ জন। এরমধ্যে ৪৯১ জনকে নোটিশ পাঠানোয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদেরঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত তেহট্ট-১ ব্লকের অধীন হলেও এখানকার বিধানসভা পলাশীপাড়া। এই পঞ্চায়েতের এই বুথে বিজেপির কর্মী-সমর্থক নেই বললেই চলে। এই বুথে বেশিরভাগ ভোটার তৃণমূল কংবা সিপিএম সমর্থক। হেয়ারিংয়ের নোটিশ পাঠানোয় তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁদের অভিযোগ ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আমাদের হেয়ারিংয়ের জন্য নোটিশ পাঠায় নির্বাচন কমিশন। বিজেপিকে খুশি করতেই কি এই নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন প্রশ্ন ক্ষুব্ধ ভোটারদের।
হেয়ারিং নোটিশ পেয়েছেন তিনবারের গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচিত সদস্য তুহিন মণ্ডল। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমি এই বুথ থেকে তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধি। একবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। আমার বাবা, ঠাকুরদা এই গ্রামের আদি বাসিন্দা। আমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে। শুধু আমি নয়, এই বুথে যাদের নামে নোটিশ এসেছে তাঁদের প্রত্যেকের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। প্রত্যেকে ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ করে বিএলও-র কাছে জমা দিয়েছেন। তারপরেও নোটিশ এসেছে। নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে তেহট্ট-১ বিডিওর কাছে গিয়েছিলাম। উনি আমাদের বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরও নোটিশ এসেছে।
তুহিনবাবু আরও বলেন ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে এখনকার নথি মিলছে না। নথি নিয়ে হেয়ারিংয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। যেহেতু এই বুথে বিজেপির পতাকা ওড়ানোর কেউ নেই তাই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চক্রান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আমার এই বুথে সকলেই হিন্দু ভোটার। বিজেপির কথায় নিবাচন কমিশন চলছে এই হেয়ারিং নোটিশ সেটা আবার প্রমাণ করে।
এই বিষয়ে এক আধিকারিক বলেন, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও বিএলও অ্যাপে তাঁদের নাম মেলানো যায়নি। এই বিষয়টি বারবার ইসিআইকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। সেইজন্য তাঁদের হেয়ারিং নোটিশ গিয়েছে। তবে আমরা বিষয়টি অবগত আছি। তাঁরা যাতে হেনস্তার শিকার না হন, সেটা দেখা হবে।