Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে ৪ দিনও টিকতে পারবে না পাকিস্তান

কিন্তু পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলার পর হঠাত্ই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে ৪ দিনও টিকতে পারবে না পাকিস্তান
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আস্ফালনের কমতি নেই, অথচ অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় শূন্য! ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানের পক্ষে চারদিনের বেশি লড়াই করা সম্ভবই নয়। এমনই বলছে বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কাছে এখন মাত্র ৯৬ ঘণ্টা বা চারদিন লড়াই করার অস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কামান বা রকেট লঞ্চার পাক সেনার হাতে থাকলেও, সেগুলি ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত গোলা-বারুদ বা রকেট তাদের হাতে নেই। কারণ, সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য কয়েক বছর ধরে এই সব অস্ত্র বিদেশে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছে পাক সেনা। কিন্তু পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলার পর হঠাত্ই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। তার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনা করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে পাক সেনাকর্তাদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২ মে পাক সেনার স্পেশাল কোরের কমান্ডাররা আলোচনায় বসেছিলেন। সেখানেও মূলত অস্ত্র সঙ্কটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Advertisement

মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ ও বিদেশি মুদ্রার স্বল্প ভাণ্ডার নিয়ে আগে থেকেই জর্জরিত পাকিস্তান। তাই দ্রুত অস্ত্র কেনা যে সম্ভব নয়, সেটাও স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন পাক সেনার শীর্ষকর্তারা। পরিস্থিতি সামলাতে তড়িঘড়ি কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি। তবে পুরনো পরিকাঠামো নিয়ে তারাও কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারবে, সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যের যে সত্যতা রয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে প্রাক্তন পাক সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার কথাতেও। কিছুদিন আগে বাজওয়া স্বীকার করেছিলেন, পাক সেনা অস্ত্র সঙ্কটে ভুগছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করার মতো অস্ত্র ও আর্থিক সামর্থ্য পাকিস্তানের নেই। 
সৈন্যসংখ্যার নিরিখে বরাবরই ভারতের থেকে পিছিয়ে পাকিস্তান। তাই ভারতের বিরুদ্ধে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত সৈন্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি নিয়েই চলে ইসলামাবাদ। স্থলযুদ্ধের জন্য এখন তাদের মূল ভরসা এম-১০৯ হাউইৎজার কামান ও বিএম-২১ রকেট লঞ্চার সিস্টেম। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকেই মোটা টাকায় ইউক্রেনকে অস্ত্র বিক্রি করতে শুরু করে পাক সেনা। এর মধ্যে মূলত রয়েছে ১৫৫ মিমি গোলা, যা ওই হাউইৎজার কামানে ব্যবহৃত হয়। বিক্রি করা হয় ১২২ মিমি রকেটও। এর মধ্যেই হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হয়। ইজরায়েলকেও লুকিয়ে ১৫৫ মিমি গোলা বিক্রি করেছে পাক সেনা। এভাবেই অন্য দেশে অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে ভাণ্ডারই খালি করে ফেলেছে তারা। এক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, পাকিস্তান দূরের যুদ্ধে অস্ত্র পাঠিয়েছে, আর এখন নিজেদের লড়াইয়ে হাত খালি। স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ করতে গিয়ে যে কৌশলগত দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে চলেছে, তা বুঝতেও পারেননি পাক সেনাকর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ