জম্মু, শ্রীনগর ও নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রাতভর জারি পাক শেলিং। পহেলগাঁও হামলার পর থেকে এই নিয়ে টানা ১৪ দিন। সীমান্তে জনবসতি এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তানের এই এলোপাথাড়ি গোলাগুলির পাল্টা জবাব দিচ্ছে ভারতীয় সেনাও। বৃহস্পতিবার সরকারি সূত্রে একথা জানানো হয়েছে। সীমান্তের গ্রাম লক্ষ্য করে এই পাক শেলিংয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জখম অন্তত ৫০ জন। শহিদ হয়েছেন ৫-ফিল্ড রেজিমেন্টের জওয়ান ল্যান্সনায়েক দীনেশ কুমার। এই অবস্থায় এদিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। এর আগে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একদফায় বৈঠক হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালেরও। সীমান্তবর্তী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন দোভাল।
জম্মুতে এদিন সেনার এক মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল রাতেও বিনা প্ররোচনায় গোলাগুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। মূলত কুপওয়ারা, বারামুলা, উরি ও আখনুর সেক্টরে সীমান্তের ওপার থেকে শেলিং চলেছে। ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও আর্টিলারি গান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনা যথাযোগ্য জবাব দিয়েছে।’ পহেলগাঁও হামলার পর থেকে বিনা প্ররোচনায় পাকিস্তানের এই গোলাগুলিতে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুঞ্চ সেক্টর। তবে গতকাল রাতে কুপওয়ারা, বারামুলা, উরি ও আখনুর সেক্টরে পাক হামলা চললেও পুঞ্চ ছিল মূলত শান্ত। উত্তেজনার এই আবহে সীমান্তবর্তী পাঁচ জেলা জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, রাজৌরি ও পুঞ্চে এই নিয়ে দ্বিতীয়দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হল। এক্স হ্যান্ডলে একথা জানিয়েছেন ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার। এছাড়া জম্মু ডিভিশনের ১০টি জেলার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দিনরাত চালু থাকবে এই কন্ট্রোল রুম।
সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি সীমান্তে পাকিস্তানের এই শেলিং থেকে রেহাই পায়নি ধর্মীয় স্থান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। হতাহতের তালিকায় রয়েছে শিশুরাও। উরির বাসিন্দা এক মহিলা বলেন, ‘নাগাড়ে গোলাগুলি চলছে। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। আচমকা কানে তালা লাগানো শব্দে উঠে পড়ি। বাইরে বেরিয়ে দেখি আমাদের বাড়িতে বোমার শেল পড়ে রয়েছে। বাড়ির প্রত্যেকে জখম। বারামুলার হাসপাতালে ভর্তি। আমার ভাইয়ের বাড়িতেও আগুন ধরে গিয়েছিল। আমাদের কাছে এখন না আছে খাবার, না আশ্রয়।’ অন্য এক বাসিন্দা বলেন, ‘ভয়ঙ্কর শেলিং চলছে। প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বাড়িতে দু’টি শেল পড়েছিল। পরিবারের দুই শিশু জখম। খাবার নেই। থাকার জায়গা নেই। আমাদের সব শেষ। শিশুদের কী হবে, সরকারের তা ভেবে দেখা উচিত।’