


নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করেছিল নয়াদিল্লি। চুক্তি অনুযায়ী, এতদিন চন্দ্রভাগা, সিন্ধু ও ঝিলমের সিংহভাগ জল পেত পাকিস্তান। কিন্তু চুক্তি স্থগিতের পর ভারত সেই জল ছাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। আর তার ফলে পাকিস্তানের দিকে নদীগুলিতে জলের পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। ইসলামাবাদের সরকারি তথ্যই বলছে, তাদের তিনটি মূল প্রদেশের নদীগুলি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত বছর এই সময় নদীগুলিতে যে পরিমাণ জল ছিল, এবার তা ২০ শতাংশ কমেছে। চাষবাসের জন্য আপাতত ভারী বর্ষার দিকেই তাকিয়ে পাকিস্তান। শুক্রবার পাক-পাঞ্জাব প্রদেশে নদীতে মোট জলের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার ৫০০ কিউসেক। গত বছর একই দিনে এই জলের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার কিউসেক। একই পরিস্থিতি সিন্ধ প্রদেশেও। সেখানে গত বছর নদীতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কিউসেক জল ছিল। এবার তা একধাক্কায় ৪০ হাজার কিউসেক কমে গিয়েছে। খাইবার পাখতুনওয়াতেও নদীতে জলের পরিমাণ কমেছে। জুন থেকে পাকিস্তানে খারিফ মরশুম শুরু হয়। চলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, এমন চলতে থাকলে নদীতে জলের পরিমাণ আরও কমবে। ফলে কৃষিকাজে সঙ্কট দেখা দেবে। এদিকে, সিন্ধু, চন্দ্রভাগার সঙ্গে বিপাশা নদীকে জুড়তে পরিকল্পনা শুরু করেছে ভারত। এই জলকে ১৬০ কিমি দীর্ঘ টানেলের মাধ্যমে রাজস্থানের গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পরিকল্পনাও করেছে দিল্লি। ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে জল নিয়ে আরও সঙ্কটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছে ইসলামাবাদ। ইতিমধ্যেই গতমাসে পাকিস্তান বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিল, চন্দ্রভাগা নদীর জলে সঙ্কট তৈরির মূলে রয়েছে ভারত।