নয়াদিল্লি: সিন্ধুর জল ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়ো যুদ্ধজিগির থামছে না পাকিস্তানের। আর এবার হুঙ্কার খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের গলায়। ইসলামাবাদে আন্তর্জাতিক যুবদিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শত্রুপক্ষ জল বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে। সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, পাকিস্তানের একবিন্দু জলও তারা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। তারা যেন একথা মনে রাখে। জল বন্ধের লক্ষ্যে এগলে পাকিস্তান এমন শিক্ষা দেবে ওরা কোনওদিন তা ভুলতে পারবে না। সিন্ধুর জল পাকিস্তানের শরীরের রক্তবিন্দু। এবিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে। পাকিস্তান কোনও রকম আপস করবে না।’
পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাতিল করে ভারত। এবিষয়ে ভারত সরকারের সাফ কথা, রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না। প্রবল চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি সুর চড়াতে শুরু করেছে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির বলেছিলেন, আমরা ডুবলে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবব। ভারত বাঁধ দিলে ধেয়ে যাবে পাক মিসাইল। যদিও এসব ফাঁপা হুমকিতে যে অবস্থানে কোনও বদল হবে না, তা ইতিমধ্যেই ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিপাকে পড়ে একদিন আগেই ঢোঁক গিলেছিল ইসলামাবাদ। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে ভারতের কাছে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ভারতের দিক থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে এবার সুর চড়ালেন খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনাচক্রে, শুল্ক ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার টানাপোড়েন শুরু হতেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়ে পাকিস্তান। এক্ষেত্রে মুনিরের অল্প দিনের ব্যবধানে জোড়া মার্কিন সফর তাৎপর্যপূর্ণ। আর তারপর থেকেই দফায় ভারতের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিতে শুরু করে মুনির সহ পাক শীর্ষ নেতৃত্ব। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ইঙ্গিতবাহী বিবৃতি এল ওয়াশিংটনের তরফে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশের সঙ্গেই আমেরিকার সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কে কোনও বদল হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, শুল্ক-সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে অবনতি হয়েছে ধরে নিয়েই পাকিস্তান লম্ফঝম্প শুরু করেছিল। কিন্তু মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের এই বিবৃতি তাতে জল ঢেলে দিল। এদিন পাক যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরই শোনা গেল ব্রুসের গলায়।