ইসলামাবাদ, ১৬ মার্চ: পাক সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। কিছুদিন আগেই বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে। পণবন্দি করা হয় প্রায় ৩৫০ বেশি যাত্রীকে। পাক সেনাদের বহু চেষ্টার পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায় ৩৪৬ জন পণবন্দিকে। বালোচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে মৃত্যু হয় ৪ পাক সেনার। বহু যাত্রীরও মৃত্যুর খবর সামনে আসে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাক সেনার উপর হামলা চালাল বালোচ বিদ্রোহীরা। আজ, রবিবার কোয়েট্টা থেকে তাফতান যাচ্ছিল পাক সেনার একটি বড় কনভয়। সেই কনভয়ে ছিল সাতটি বাস ও দুটি গাড়ি। মাঝপথেই পাক সেনা বোঝাই একটি বাসে সজোরে এসে ধাক্কা মারে আইইডি বোঝাই একটি গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে। যার ফলে আগুন লেগে যায় বাসটিতে। এর ফলে সাতজন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। জখম কমপক্ষে ২১।
যদিও পাক সরকার মিথ্যে তথ্য দিচ্ছে বলে দাবি বালোচ বিদ্রোহীদের। তাদের দাবি, এই হামলা তারা চালিয়েছে, আর তাতে ৯০ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই বিষয়ে বিবৃতি জারি করে বালোচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছে, ‘কিছুক্ষণ আগেই নোশকির আরসিডি জাতীয় সড়কে রাখশান কারখানার কাছে পাকিস্তানি সেনার কনভয় লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মির আত্মঘাতী বিভাগ মজিদ ব্রিগেড। কনভয়ে আটটি বাস ছিল। একটি বাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ হামলার পর আরও একটি বাসকে ঘিরে ফেলে বালোচ বিদ্রোহীরা। তারপরেই ওই বাসে থাকা পাক সেনাদের গুলি করে হত্যা করা হয় বলেই জানিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যার ফলে মোট ৯০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বালোচ বিদ্রোহীদের সেই দাবি মানতে নারাজ পাক সেনা। তাঁরা বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ‘সেনাদের নিয়ে একটি কনভয় কোয়েট্টা থেকে তাফতান যাচ্ছিল। কনভয়ে ছিল সাতটি বাস ও দুটি গাড়ি। মাঝপথেই হামলা চালানো হয়। কনভয়ে থাকা একটি বাসে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি এসে ধাক্কা মারে। সম্ভবত এটা আত্মঘাতী হামলা। অন্য একটি বাসে গ্রেনেড ছোড়া হয়।’ এই হামলায় এখনও পর্যন্ত সাতজন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ২১ জন জখম। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই জানাচ্ছে পাক সরকার। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। হামলা চালানো বালোচ বিদ্রোহীদের নিকেশ করা গিয়েছে। জখম পাক সেনাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোটা এলাকায় তল্লাশি চালাতে ড্রোনের ব্যবহার করছে পাকিস্তানি সেনা।