Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেনাঘাঁটির অদূরেই পাকচরের ডেরা পানাগড়ে, খোঁজ পায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা

সেনাঘাঁটির অদূরেই পাকচরের ডেরা পানাগড়ে, খোঁজ পায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পানাগড় ও সংবাদদাতা, মানকর: পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে খুন করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। জঙ্গিদের গতিবিধি ঘুণাক্ষরেও আঁচ পায়নি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। পানাগড়ের অর্জুন সিং এয়ার ফোর্স স্টেশনের অদূরেই গড়ে উঠেছিল পাকগুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্টের ডেরা। টেরই পায়নি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি। পানাগড়েই দস্তুরমতো বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হাবিবুল্লার। তার খোঁজও পাননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এভাবেই বার বার উঠে আসছে পানাগড়ের সঙ্গে জঙ্গি যোগ। আতঙ্ক বাড়ছে এলাকায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, পানাগড়ের বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর ঘাঁটি কতটা নিরাপদ? কীভাবে গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়িয়ে পানাগড়ে দেশ-বিরোধী কাজ হচ্ছিল একের পর এক?   

Advertisement

পাকগুপ্তচর সংস্থাকে ভারতীয় ফোন নম্বর সরবরাহ করা, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ছবি শেয়ার করার অভিযোগে ট্রাক্সফোর্স (এসটিএফ) মেমারি থেকে গ্রেপ্তার করেছে মুকেশ রজক ও রাকেশ গুপ্তাকে। মুকেশের বাড়ি পানাগড়ে। এটা জানার পরও কয়েকদিনে তাঁর বাড়ির হদিশ পেতে পারেনি কাঁকসা থানার পুলিস বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। শনিবার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরাই তার ডেরার খোঁজ পায়। তাও আবার এয়ার ফোর্স স্টেশনের নাকের ডগায়। কাঁকসা থানার পানাগড় গ্রামের প্রায় ৩০ বছর আগে মুকেশের পরিবার বিহার থেকে এখানে বসবাস শুরু করে। পানাগড় হিন্দি হাইস্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে সে কাজের সন্ধানে মেমারি চলে যায়। তারপর দেশ বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এদিন তার বউদি নিশা রজক বলেন, হোলির সময়ে শেষবার পানাগড়ে এসেছিল। খুব ব্যস্ত ছিল। তাই আমাদের সঙ্গে রঙ না খেলেই চলে গিয়েছিল। অভিযুক্তর মা সোনা রজক বলেন, আমাদের বলত, কাপড়ের দোকানে কাজ করি। বাড়িতে কোন টাকা দিত না। আমি ভাবতে পারছি না ছেলে এমন কিছু করবে। এলাকাবাসী যখন জানতে পারে, এই মুকেশই পাক গুপ্তচর সংস্থার হয়ে  কাজ করার অভিযোগে  গ্রেপ্তার হয়েছে, তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। দেড় বছর আগে পানাগড়ের হাজারা পাড়ার কলেজ ছাত্র হবিবুল্লাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। সে ছিল বাংলাদেশের ভারত বিরোধী একটি জঙ্গি মডিউলের মাথা। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদীদের পর এবার তো সরাসরি পাক যোগ! বেশ ভাবিয়ে তুলছে এলাকার বাসিন্দাদের।  
তবে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এ নিয়ে হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। কাঁকসা থানার পুলিসের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। এসটিএফের হাতে পানাগড়ের বাসিন্দা এক পাকচক ধরা পড়লেও তাদের কোনও বিষয়টি নিয়ে কোনও আগ্রহ নজরে আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, থানায় স্থায়ী আইসি না থাকায় ছড়ি ঘোরাচ্ছেন কয়েকজন নাকউঁচু এসআই। যাঁদের সঙ্গে এলাকার নিবিড় যোগাযোগ কার্যত নেই বললেই চলে। 
পানাগড় নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক প্রকাশ দাস বলেন, যেভাবে একের পর এক জঙ্গি কার্যকলাপ সামনে আসছে, তাতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির তৎপরতা বাড়ানো উচিত। প্রাক্তন শিক্ষক সৈয়দ সামসুরজোহা বলেন, আমরা উদ্বেগে রয়েছি। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য দেবদাস বক্সি বলেন, রাজ্য এসটিএফ তৎপর না থাকলে তো বড় অঘটন ঘটে যেত, কী করছে অমিত শাহের মন্ত্রক! বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, এসটিএফ রাজ্যের হলেও তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা পায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ