সংবাদদাতা, ফালাকাটা: বৃহস্পতিবার সাত সকালে ফালাকাটা শহরে দাপিয়ে বেড়াল জোড়া বাইসন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইসনের হামলায় জখম হন তিনজন। পাশাপাশি বাইসনের গুঁতোয় একটি গোরু মারা গিয়েছে। বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাইসন দু’টিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করেন। দাপাদাপিতে কাহিল হয়ে পড়ে দু’টি বাইসনই। পরে মৃত্যু হল একটির।
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইসন দু’টি কুঞ্জনগর জঙ্গল থেকে প্রথমে ফালাকাটা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চুয়াখোলায় আসে। পরে পাশেই ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পারঙ্গেরপাড়ে ঢোকে। এলাকার ভুট্টা খেতে ঢুকে তছনছ করে। ওই সময় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস মাঠে গোরু বাঁধতে গিয়েছিলেন। ভুট্টা খেত থেকে আচমকাই বাইসন দু’টি বেরিয়ে তাঁর উপর হামলা চালায়। বিশ্বজিৎবাবু গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে ফালাকাটা সুপার স্পেসলিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে কোচবিহারে একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন এখন।
বিশ্বজিৎবাবুকে জখম করে বাইসন দু’টি শহর ছেড়ে চলে যায় গ্রামীণ এলাকা বানিয়াবাড়িতে। সেখানেও ভুট্টা খেতে তাণ্ডব চালায়। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জ ও মাদারিহাট রেঞ্জের কর্মীরা চলে আসেন। বনকর্মীদের তাড়া খেয়ে বাইসন দু’টি ফের কুঞ্জনগরের দিকে যায়। সেই সময় রাস্তায় কৌতূহলী লোকজন জড়ো হলে উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটা বাইসনের গুঁতোয় যোগেন্দ্রপুর গ্রামের সুজয় বর্মন ও সোনারায়ধামের নারায়ণ বিশ্বাস আহত হন। আহত দু’জনকে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটিতে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা কানু বর্মনের গোরু বাইসনের গুঁতোয় মারা যায়। বাইসন দু’টি যোগেন্দ্রপুর গ্রামের ভুট্টা খেতে আশ্রয় নেয়। পরে বাইসন দু’টি কুঞ্জনগর ফিরে যাওয়ার সময় একটির মৃত্যু হয়। অন্যটি ফের ভুট্টা খেতে আশ্রয় নেয়। রাতে বাইসনটিকে জঙ্গলে ফেরানো হয়।
জলদাপাড়ার ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, একটি বাইসনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজন আহত হয়েছেন। রাতে অপর বাইসনটিকে জঙ্গলে ফেরানো হয়েছে। নিজস্ব চিত্র।