সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হিসাবে কাকে পছন্দ? মণ্ডল সভাপতি থেকে বিধায়ক ও সাংসদদের এমন প্রশ্ন করছে গেরুয়া শিবির। তারা এজন্য সংশ্লিষ্ট নেতা-নেত্রীদের চিরকুট ধরিয়ে তিনটি করে নাম সংগ্রহ করছে। ভোটমুখি বাংলায় তাদের এমন সমীক্ষা ঘিরে দলের অন্দরেই চলছে জোর চর্চা। প্রার্থী নিয়ে বিদ্রোহ এড়াতে তারা এমন কৌশল নিয়েছে বলেই অনেকের ধারণা। একইসঙ্গে পদ্ম শিবির বিধায়কদের এলাকায় পড়ে থাকা ও গ্রামে গিয়ে সহভোজে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর।
দলের রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, বিজেপি ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো কোম্পানি নয়। এটা ‘পিসি’ কেন্দ্রিক দল নয়। এখানে একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। সেই মতো দলের বিভিন্ন স্তরের কার্যকর্তাদের মতামত নিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর পিছনে অন্য কোনো কারণ নেই। বঙ্গ বিজেপির অন্যতম ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ। গত কয়েকদিন এখানকার মাটি চষে বেড়ান বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক তথা বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির কার্যালয়ে তিনি মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দলীয় সূত্রে খবর, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের মণ্ডল কমিটির সংখ্যা ন’টি। ওই দিনের বৈঠকে মণ্ডলের বর্তমান সভাপতি, প্রাক্তন সভাপতি, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে বসবাসকারী জেলা কমিটির সদস্য এবং বিধায়ক আনন্দময় বর্মন ছিলেন। সবমিলিয়ে ১৫ জন। তাঁদেরকে একটি করে চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম লিখতে বলা হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীর দলীয় পদ উল্লেখ করতে বলা হয়। কিন্তু চিরকুট পূরণকারী নিজের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে লিখতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৫ জনের নাম পাঠানো হয়। ওইদিনই একইভাবে ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক। বৈঠকে স্থানীয় বিধায়ক দুর্গা মুর্মু সহ ফাঁসিদেওয়ার ১৩ জন কার্যকর্তা হাজির ছিলেন। তাঁরাও চিরকুটে তিনটি করে নাম উল্লেখ করে সই করেছেন। এ বিষয়ে চেষ্টা করেও ফাঁসিদেওয়ার বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক অবশ্য বলেন, এটা দলীয় বিষয়। এ ব্যাপারে এখান থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়। এভাবেই উত্তরবঙ্গের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র চষে বেড়ান বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এনিয়ে দলের অন্দরেই শোরগোল শুরু হয়েছে। দলের একাংশের ধারণা, কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হতে পারে। সম্ভবত তা সুষ্ঠুমতো করতেই এমন কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বিগত বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে পদ্ম শিবিরের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার তা এড়াতেই এমন কৌশল ওদের। এদিকে, এই মুহূর্তে বিধায়কদের নিজের এলাকার বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জনসংযোগ নিবিড় করতে বিধায়কদের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে ভোজন, বাড়ি বাড়ি যাওয়া, মাচা ও চায়ের দোকানের ঠেকে আড্ডা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।