Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দাদাগিরি’ না করার শর্তে ঘরে ফিরলেন পদ্মের নেতা-কর্মীরা

ভূপতিনগর থানার সন্ত্রস্ত অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নেতাকর্মীরা হাড়ে হাড়ে তা বুঝতে পারছেন।

‘দাদাগিরি’ না করার শর্তে ঘরে ফিরলেন পদ্মের নেতা-কর্মীরা
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কথায় আছে, ‘কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি’। ভূপতিনগর থানার সন্ত্রস্ত অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নেতাকর্মীরা হাড়ে হাড়ে তা বুঝতে পারছেন। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের সময়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব আধাসেনার নিরাপত্তা দিয়ে সন্ত্রস্ত ওই এলাকার নেতাদের ভোটের প্রচারে ঝাঁপানোর নির্দেশ দিয়েছিল। বিমল গায়েন, বিভাস প্রধান, রাজশেখর বরের মতো অনেক নেতা নিজের এলাকায় ভোট ক্যাম্পেন করার জন্য আধাসেনার নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। ভোট মিটে যেতেই আধাসেনা তুলে নেওয়া হয়েছে। ভোটে দলীয় প্রার্থীও জয়ী হয়েছেন। কিন্তু, অর্জুননগরের সন্ত্রস্ত ওই এলাকার নেতাদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গোলক পড়্যা, মাধবেন্দ্র সাউ, বিমল পড়্যা, দীপক বরের মতো অর্জুননগরের অনেক নেতা ঘরছাড়া। ভোট মিটে যাওয়ার পর এলাকা শান্ত হলেও দল ঘরছাড়া নেতাদের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ এলাকায় ‘দাদাগিরি’ না করার শর্তে তাঁরা সম্প্রতি ঘরে ফিরেছেন। তবে, ঘরছাড়াদের ঘরে ফিরে আসার পেছনে দলের নেতৃত্বের অবদান নেই বলে তাঁদের একাংশ আক্ষেপের সুরে বলছেন।

Advertisement

ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আমাদের ঘরছাড়া বেশ কয়েকজন ঘরে ফিরেছেন। তবে, এখনও চার-পাঁচজন ঘরে ফিরতে পারেননি। আমরা ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর জন্য বার বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। দল ওইসব কর্মীদের পাশেই রয়েছে।
২০২১ সালে ভগবানপুর বিধানসভা থেকে গোটা পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে সর্বাধিক মার্জিনে জয়ী হন বিজেপির রবীন্দ্রনাথ মাইতি। ব্যবধান ছিল ২৭ হাজার ৫৪৯ ভোট। টানা চার বারের বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতিকে জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ মার্জিনে হারিয়ে জয় পেয়েছিল বিজেপি। সেই জয়ে আত্মহারা হয়ে অর্জুননগর, বরোজ এবং ইটাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকাকে মুক্তাঞ্চল বানিয়ে ফেলে বিজেপির ক্যাডাররা। মূলত সিপিএম থেকে যাওয়া সেইসব ক্যাডাররা বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচার শুরু করে। ধীরে ধীরে ওই এলাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাতে শুরু করে। তৃণমূল প্রতিরোধের রাস্তায় নেমে হারানো মাটি খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। এভাবেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগেই অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৪০ জন বিজেপি নেতাকর্মী ঘরছাড়া হন। গোটা পঞ্চায়েতে বিজেপির পতাকা টাঙানোর মতো লোকজন ছিল না। গোটা এলাকা শাসকদলের কব্জায় ছিল। এরকম পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন নেতাকে আধাসেনার নিরাপত্তা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তাঁদের উপর ভরসা করে ভোটে লড়লেও অর্জুননগরে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। ১৬০০ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ভোটের সময়ে রাজনৈতিক উত্তাপে আবারও একঝাঁক পদ্ম নেতা ঘরছাড়া হন।
ভগবানপুরের বিজেপির বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পা দেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি এই পঞ্চায়েতকে বরাবর এড়িয়ে চলেন। এনিয়ে সেখানকার নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ভোটের সময়ে অর্জুননগর পঞ্চায়েত এলাকার নেতাদের ব্যবহার করা হলেও ভোট পার হলেই দল তাঁদের পাশে দাঁড়ায় না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় বেশ কয়েকজন হাঙ্গামা না করার অঙ্গীকার করে ঘরে ফিরেছেন। দীর্ঘদিন ঘরের বাইরে থাকায় তাঁরা ভীষণ অসুবিধায় পড়েছিলেন। এই অবস্থায় বেশ কয়েকজন যে কোনও শর্তে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ঘরছাড়া নেতারা ঘরে ফেরার পর কোনওরকম ঝামেলা হয়নি। শাসকদল তাদের স্থানীয় নেতৃত্বকে এনিয়ে সংযত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ