নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টানা বৃষ্টি কোথাও আশীর্বাদ, আবার কোথাও অভিশাপ হয়ে গিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জন্য দক্ষিণবঙ্গের আরামবাগের খানাকুল, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম এলাকায় ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু পূর্ব বর্ধমানেই প্রায় ১২০ বিঘা জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষিরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, তারজন্য কৃষিদপ্তর বিকল্প পরামর্শ দিচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বা বীরভূমের মতো জেলার চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। গত বছর এই সময় পর্যন্ত পুরুলিয়া জেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ হয়েছিল। এবার এক লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান রোয়া হয়ে গিয়েছে। কৃষিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মিনা বলেন, চাষিরা যাতে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেন, তারজন্য প্রথম থেকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাষিরা বিকল্প বীজতলা তৈরি করে ফেলেছেন। এবছর ৪২ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান রোপণের টার্গেট রয়েছে। তারমধ্যে ২০ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান রোয়া হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে অতি বৃষ্টি হলেও উত্তরবঙ্গে জলের অভাব রয়েছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা যাতে বিপাকে না পড়েন, তারজন্য কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সময় এমটিইউ, আইটি ৪৭৮৬, পুস্প, ফাল্গুনির মতো ধানের বীজ তৈরি করা যেতে পারে। বেশকিছু জমির বীজতলা জলে ডুবে রয়েছে। জল নেমে গেলে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়া কাঠা প্রতি ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১৫০ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ স্প্রে করতে হবে। কোনও বীজতলায় বাদামি দাগ, খোলা পচা, ব্যাকটেরিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। শ্রী পদ্ধতিতে ধান রোপণে জোর দিতে হবে। এছাড়া ড্রাম সিডার পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। গলসির চাষি সুদর্শন পাত্র বলেন, যাঁদের উঁচু জমি নেই, তাঁরা সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন। বাইরে থেকে বীজের চারা কিনে আনতে হচ্ছে। এছাড়া চাষ করা জমিতে জল জমে রয়েছে। বীজ থাকলেও সেই জমিগুলিতে রোপণ করা যাচ্ছে না। কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খানাকুল, ঘাটাল এবং উত্তর ২৪ পরগনার বেশকিছু এলাকায় ধান চাষ পিছিয়ে যেতে পারে। ১৫ আগস্টের মধ্যে বীজ রোয়া না গেলে উৎপাদন ধাক্কা খেতে পারে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, আউগ্রামে বহু এলাকার চাষিদের দু’বার করে বীজ ফেলতে হয়েছে। প্রথমবার বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জল না কমলে আবার বীজতলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তারপরে, ডিভিসি ক্রমাগত জল ছাড়ায় চাষিদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কৃষিদপ্তর ঝুঁকি না নিয়ে শস্যবিমায় জোর দিয়েছে। এই প্রকল্প চালু থাকায় ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চাষিদের পথে বসতে হবে না।



