নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১ নভেম্বর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে সহায়ক মূল্যে ৪লক্ষ ৩৫হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার কাজ শুরু করছে খাদ্যদপ্তর। ২০২৪-’২৫খরিফ মরশুমে এই জেলাকে ৩লক্ষ ২৮হাজার মেট্রিকটন ধান কেনার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই জেলায় ৩লক্ষ ২৬হাজার ৬২৭মেট্রিকটন ধান কেনা হয়েছিল। এবার টার্গেট অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। তাই শুরু থেকেই ক্যাম্পের সংখ্যাও পর্যাপ্ত খোলা হচ্ছে। ১নভেম্বর থেকে গোটা জেলায় ৩৮টি সিপিসি(সেন্ট্রালাইজড প্রকিওরমেন্ট সেন্টার) এবং ১২টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে ধান কেনা হবে। এই জেলায় ইসিএসসি এক লক্ষ মেট্রিকটন এবং বেনফেড ৪২হাজার মেট্রিকটন ধান কিনবে। টার্গেটের বাকি ধান কিনবে খাদ্যদপ্তর।
জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধাড়া বলেন, জেলায় ২৫টি ব্লকের মধ্যে ময়না বাদে সব ব্লকে ধান কেনা হবে। এগরা, ভগবানপুর, পটাশপুর, নন্দীগ্রাম সহ বেশকিছু জায়গায় ব্লকে দুই থেকে তিনটি করে সিপিসি খোলা থাকছে। ধান কেনার কাজে তদারকি করতে জেলাস্তরে নোডাল অফিসার থাকবেন। এছাড়াও ব্লকস্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এবছর সরকার সহায়ক মূল্যে কুইন্টাল প্রতি ধানের দাম রেখেছে ২৩৬৯টাকা। সিপিসিতে বিক্রি করলে প্রতি কুইন্টালে ২০টাকা ইনসেনটিভ পাওয়া যাবে। ইসিএসসি, বেনফেড কিংবা ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে বিক্রি করলে ইনসেনটিভ বাবদ অতিরিক্ত ২০টাকা পাওয়া যাবে না। গত বছর ধানের দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল ২৩০০টাকা। এবার ৬৯টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে, এককালীন একজন চাষি সর্বাধিক ১৫কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। চাষির জমির পরিমাণ বেশি হলে গোটা মরশুমে দফায় দফায় সর্বাধিক ৯০কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে জমির পরিমাণ খতিয়ে দেখা যাবে। এগরা, পটাশপুর, ভগবানপুর, কাঁথি, নন্দীগ্রাম, খেজুরি, তমলুক, পাঁশকুড়া প্রভৃতি ব্লকে একাধিক সিপিসি খোলা হয়েছে। এগরা-১ ও ২ব্লকে ফলন সবচেয়ে বেশি হয়। তাই ওই দুই ব্লকে তিনটি করে সিপিসি খোলা থাকছে। সব জায়গায় পারচেজ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। চাষির অ্যাকাউন্টে ধানের দাম পেমেন্ট করা হবে। ধান কেনার কাজকে প্রথম থেকেই ত্বরানিত করতে জেলাস্তরে নোডাল অফিসার রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রত্যেক ব্লকে এনিয়ে কমিটি গড়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় আড়াই লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। তার ৩০শতাংশ অ্যাডভান্স রোপণ করা হয়। অর্থাৎ ওই ৩০শতাংশের ফলন আগেভাগে হয়েছে। এই মুহূর্তে কোথাও ধান কাটা শুরু হয়েছে আবার কোথাও খামারে তোলার কাজ চলছে। বাকি ৭০শতাংশ দেরিতে রোপণ হয়। অর্থাৎ ওই ৭০শতাংশের ফলন দেরিতে হয়।
পটাশপুর-১ব্লকের বড়হাট গ্রামের জনার্দ্দন ঘড়া, প্রেমচাঁদ ঘড়া বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প বেশি করলে চাষিদের সুবিধা হয়। তানাহলে ফড়ে অল্প দামে ধান কিনে নেয়। মাঠ থেকে ধান খামারে উঠলেই মহাজন ধানের টাকা সুদসমেত শোধ করার জন্য তাগাদা দিতে শুরু করেন। আমাদের মতো অনেক গরিব চাষি তখন ফড়েদের কাছে অনেক কম দামে ধান বেচতে বাধ্য হয়। সরকার গরিব চাষিদের কথা ভেবে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু করলেও সেই সুবিধায় ভাগ বসিয়ে দেয় ফড়ে। প্রতীকী ছবি