নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সহায়ক মূল্যে ধান কেনা থেকে মিলে পৌঁছনো পর্যন্ত স্বচ্ছতায় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি বছর কুইন্টাল পিছু ধানের দাম বাড়িয়ে ২৩৬৯ টাকা করা হয়েছে। উৎসাহ ভাতা রয়েছে আরও ২০টাকা। ধান কেনা নিয়ে অনিয়ম রুখতে জেলা প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও ঝাড়গ্রামে ফড়েদের দাপট রোখা যাচ্ছে না। চাষিদের কাছ থেকে ফড়েরা নানা কৌশলে ধান কিনে নিচ্ছে।
রাজ্য সরকার অভাবী বিক্রি রুখতে সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে। প্রতিটি সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফড়েদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রতিটি ধান ক্রয়কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধান ক্রয়কেন্দ্রের আশপাশে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র না আনলে সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে কেউ ধান বিক্রি করতে পারবেন না। ই–প্যাডি পোর্টালে শুধু নথিভুক্ত চাষিদের কাছ থেকেই ধান কেনা হচ্ছে। ধান ওজনের সময় ডিজিটাল ওয়েট মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা ধান বিক্রি করতে আসছেন তাঁদের জন্য ধান ক্রয়কেন্দ্রে পানীয় জল, শৌচাগার ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি সব উদ্যোগ সত্ত্বেও জেলার চাষিদের অনেকেই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঝাড়গ্রামের বড় সংখ্যক চাষি অল্প জমিতে ধান চাষ করেন। তাঁদের পক্ষে গাড়ি ভাড়া করে ধান বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া সমস্যার। তাছাড়া বাটা কাটিংয়ের জেরে ছোট চাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। ঝক্কির ভয়ে ফড়েদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফড়েরা ১৭০০-১৮০০টাকা দিচ্ছেন। স্লটের দিন হাজিরা দেওয়ার মতো করে মান্ডি ও সিপিসি কেন্দ্রে যাচ্ছেন চাষিরা। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর তা তুলে ফড়েদের এজেন্টদের হাতে দিতে হচ্ছে। বিপুল টাকা ঢুকছে ফড়েদের পকেটে।
বড় চাষিদের ক্ষেত্রে আবার অন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক-একজন চাষিকে স্লট পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার উপর হাতির হানার ভয় রয়েছে। সেকারণে বাড়িতে বাড়তি ধান মজুত না রেখে খোলা বাজারে অল্প দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এবছর প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ৬৯টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্থায়ী ধান ক্রয় কেন্দ্র বা সিপিসি কিংবা ভ্রাম্যমাণ ধান ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করলে ২০টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। একজন চাষি সারা বছর সর্বোচ্চ ৯০কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারেন। তবে ফড়েরা লাভের গুড় খাচ্ছেন বলে চাষিদের অভিযোগ। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের চাষি তপন মাহাত বলেন, ধান নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া তো রয়েছে। তার উপর কুইন্টাল প্রতি বাটা কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফড়েরা এসে আমাদের ধান বিক্রি করে দেবে বলছে। স্লটের দিন শুধু কৃষক মান্ডি বা সিপিসিতে যেতে হবে। ফড়েরা সুকৌশলে সেই ধান কিনে নিচ্ছে।
জেলা খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় মহান্তি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ব্লকের কৃষিদপ্তর, স্থানীয় থানার সহযোগিতা নিয়ে গ্ৰামীণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র চাষিদের বোঝাতে গ্ৰামে গ্ৰামে প্রচার চালানো হবে।