Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যাকাউন্ট নম্বর বদল করে ট্যাবের টাকা গায়েব

অ্যাকাউন্ট নম্বর বদল করে ট্যাবের টাকা গায়েব
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক স্কুলে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের ছাত্রছাত্রীদের ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। ফলে তারা সমস্যায় পড়েছে। 
Advertisement
বাঁকুড়া জেলার অন্তত ১০টি স্কুলে অ্যাকাউন্ট নম্বর বদল করে ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৭জন পড়ুয়া টাকা পায়নি বলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। গঙ্গাজলঘাটি ও সিমলাপাল থানা এলাকার দু’টি স্কুলের সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী টাকা পায়নি বলে অভিযোগ। এব্যাপারে গঙ্গাজলঘাটি ও বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানায় দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি জানিয়েছেন। পুলিস সুপার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দ্রুত মামলা রুজু করি। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়। ইতিমধ্যে চারজন ছাত্রছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থার করা হয়েছে। বাকিরাও কীভাবে টাকা পাবে, তা দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।   
বৃহস্পতিবার সাইবার ক্রাইম থানার মামলাটি বাঁকুড়ার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে ওঠে। সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী সায়ন্তন চৌধুরী বলেন, সিমলাপালের একটি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়ার মামলার তদন্তকারী আধিকারিক সন্দেহজনক আটটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার আবেদন জানান। বিচারক এদিন সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পীযূষকান্তি বেরা বলেন, ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার পিছনে স্কুলগুলির গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা ব্যাঙ্কগুলির কাছে ছাত্রছাত্রীদের টাকা অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সব রহস্যের কিনারা হবে।  
পুরুলিয়া জেলাতেও তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে সাইবার থাবা বসানোর অভিযোগ উঠেছে। রঘুনাথপুর মহকুমার পাড়া থানার আনাড়া গার্লস হাইস্কুলের ন’জন ছাত্রী এবং রঘুনাথপুর থানার চেলিয়ামা বিজলিপ্রভা হাই স্কুলের ছ’জন ছাত্রের ট্যাব কেনার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ বুধবার থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। তাই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা সরাসরি পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়। অ্যাকাউন্টে কোনও ভুলভ্রান্তি না থাকলে আগে কোনও বছর এই প্রকল্পের টাকা পেতে পড়ুয়াদের সমস্যা হয়নি। এবার রাজ্যজুড়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।
আনাড়া গার্লস হাইস্কুলের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বদল করা হয়েছে। তাদের টাকা উত্তর দিনাজপুরের রামগঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ ও ইসলামপুরের একাধিক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। চেলিয়ামা বিজলিপ্রভা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক একই অভিযোগ করেছেন। ওই বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের টাকা উত্তর দিনাজপুরে কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। আনাড়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা রায় ও চেলিয়ামা বিজলিপ্রভা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বকুল মণ্ডল বলেন, কয়েকজন পড়ুয়া তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে পায়নি বলে আমাদের জানায়। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ শুরু করি। জানতে পারি, ওই পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট নম্বর বদল করে প্রতারণার টাকা উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ঢুকিয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য দিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। জেলা পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি আপাতত ফ্রিজ করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ