নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলির জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছিলেন, রামকৃষ্ণ সেতুর উপর দিয়ে খালি বাস যেতে পারবে, যাত্রীরা হেঁটে যাবেন। জেলাশাসকের নির্দেশ কার্যকর করতে মঙ্গলবার চুঁচুড়ায় বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু বৈঠকে ওই নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে কোনও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল না। বাস মালিক সংগঠন একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। তার জেরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। আপাতত সেতুর উপর দিয়ে যাত্রী নিয়েই স্থানীয় ও আন্তঃজেলা বাস চলবে বলে জানিয়েছে মালিক সংগঠন।
এদিন বৈঠকে ছিলেন হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অমিতেন্দু পাল, আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী, আরামবাগের এআরটিও দেবাশিস সরকার সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। এছাড়া হুগলি ও আরামবাগের একাধিক বাস মালিক সংগঠনের কর্তারাও ছিলেন।
পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সেতুর স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কাটা সার্ভিসে বাস চালানোর ব্যাপারে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আপাতত খালি বাস সেতু দিয়ে পারাপারের অনুরোধ করা হয়েছে। আরামবাগের কালীপুর এলাকায় অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ড করতে জায়গা দেখা হবে। তার সঙ্গে ঘুরপথের রুটও ব্যবহার করতে পারে বাসগুলি।
হুগলি ইন্টার রিজিয়ন বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গৌতম ধোলে বলেন, খালি বাস সেতু দিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরমে উঠবে। সেইজন্য নদীর উপর অস্থায়ী রাস্তা তৈরির প্রস্তাব প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। তারসঙ্গে কাটা সার্ভিস করতে কালীপুর এলাকায় অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ড গড়ার কথাও বলা হয়েছে। সেইসব প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিয়েই বাসগুলি সেতু দিয়ে চলাচল করবে।
আরামবাগের বাস মিনিবাস অপারেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, সেতুতে খালি বাস নিয়ে গেলে সময় নিয়ে সমস্যা হবে। যাত্রী ওঠানামা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তার সঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই কালীপুর এলাকায় অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ড তৈরির প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। এরজন্য সেখানে পর্যাপ্ত শৌচাগার, আলো, শেড গড়তে হবে প্রশাসনকে। তবেই বাস পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার মাঝ রাতে আরামবাগের পল্লিশ্রীতে দ্বারকেশ্বর নদের উপর রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে। প্রায় ১৫ মিটার অংশ কংক্রিটের ফুটপাত ও গার্ডওয়াল ভেঙে ঝুলে রয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে ব্যারিকেড করে দেয় পুলিস। আপাতত সেভাবেই রয়েছে সেতুর ওই অংশ। তার পাশ দিয়ে একমুখী যান চলাচল করছে। ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাইট বার বসিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বৈঠকে সিদ্ধান্তমতো আজ, বুধবার কালীপুরে অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ডের জমি পরিদর্শন করার কথা। তার সঙ্গে আরামবাগে পুলিস, প্রশাসন, পুরসভা বাস মালিক সংগঠনের বৈঠক হবে। তারপরই এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর মুখে হাইট বার সাড়ে তিন মিটার উচ্চতার করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি বাড়িয়ে ৩. ২ মিটার করা হবে। সেতুর মেরামতি শুরু করতে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শন করছেন।