Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক বছরে শিলিগুড়ির ৭টি ‘মা ক্যান্টিন’ থেকে বিলি ছ’লক্ষাধিক প্লেট খাবার

হোটেল, রেস্তরাঁর ছড়াছড়ি। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী শিলিগুড়িতে

এক বছরে শিলিগুড়ির ৭টি ‘মা ক্যান্টিন’ থেকে বিলি ছ’লক্ষাধিক প্লেট খাবার
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: হোটেল, রেস্তরাঁর ছড়াছড়ি। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী শিলিগুড়িতে। এক বছরে এই বাণিজ্যনগরীতে সাতটি ক্যান্টিন থেকে পাঁচ টাকায় বিলি হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার প্লেট খাবার। এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগ। তারা শহরে চালু করবে আরও একটি মা ক্যান্টিন। পুরসভার বাজেটে বিষয়টি ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, ক্যান্টিনগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেরও পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। 

Advertisement

পুরসভার ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, মা ক্যান্টিনের চাহিদা শহরে ক্রমশ বাড়ছে। শীঘ্রই সেভক রোডে আরওএকটি এমন ক্যান্টিন চালু করা হবে। এজন্য জায়গা দেখার কাজ চলছে। 
বাণিজ্যনগরী শিলিগুড়িতে হোটেল, রেস্তরাঁ অসংখ্য। পাড়ার গলি থেকে প্রধান রাস্তা সর্বত্র মিলবে খাবারের হোটেল। এই অবস্থায় ২০২১ সালে শহরে চালু করা হয় মা ক্যান্টিন। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রথমে এনজেপি ও বাগরাকোটে দু’টি ক্যান্টিন চালু করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মধ্যে আরও পাঁচটি ক্যান্টিন চালু করা হয়। সেগুলি শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড, জংশন ও গেটবাজারে। পাঁচ টাকায় ক্যান্টিনগুলি থেকে বিলি করা হয় ভাত, ডাল, সব্জি ও ডিম। গত এক বছরে সেগুলি থেকে বিলি করা হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার প্লেট খাবার। 
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রজেক্ট’গুলির মধ্যে মা ক্যান্টিন অন্যতম। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের অনেক পরে এখানে সেই প্রকল্প চালু হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মহিলা স্বনির্ভরগোষ্ঠী। সেগুলির মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের চাহিদা সর্বাধিক। এখানে  দৈনিক ৫০০ প্লেট খাবার তৈরি করা হয়। বাকি ছ’টি ক্যান্টিনে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ প্লেট খাবার তৈরি হয়। 
জংশন ও শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার ফাঁকে দু’জন বলেন, শহরে প্রচুর ভাতের হোটেল। কিন্তু সেগুলিতে খাবারের দামও অস্বাভাবিক। যা সাধারণ মানুষের নাগালে বাইরে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ টাকার ক্যান্টিন আমাদের পেট ভরাচ্ছে। 
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বলেন, পড়াশোনা, ব্যবসা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রচুর মানুষ এই শহরে আসে। তাদের একাংশ ক্যান্টিনগুলি থেকে খাবার খেয়ে উপকৃত হচ্ছে। শহরে এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। 
অনেক সময় খাবার দিতে পারছি না। অনেকে ক্যান্টিন থেকে ফিরে যাচ্ছে। তাই ক্যান্টিনের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং খাদ্য সামগ্রীর জোগান বাড়ানোর প্রস্তাব পুরসভার কাছে দেওয়া হয়েছে। 
পুরসভা সূত্রের খবর, চার বছরে ক্যান্টিনগুলি থেকে বিলি করা হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ ১৭ হাজার খাবার প্লেট। ডেপুটি মেয়র বলেন, পুরসভা থেকে প্রতিটি ক্যান্টিনে উপভোক্তা পিছু ১০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। এরবাইরে রাজ্য সরকার খাদ্যসামগ্রী প্রদান করছে। আর ক্যান্টিনগুলিতে কিচেন, ডাইনিং হল ও মেয়েদের টয়লেট তৈরির প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ