সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: কালীপুজো এবং দীপাবলির আগে বাড়িতেই নিজের হাতে মাটির প্রদীপ বানাচ্ছেন পুরাতন মালদহের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিন শতাধিক মহিলা। শুধু তাই নয়, সেগুলি রোদে শুকিয়ে পাইকারি দরে ইংলিশবাজার শহরের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, অনেক মহিলা তাঁর স্বামী বা শ্বশুরের হাতে বিক্রির জন্য মাটির প্রদীপ তুলে দিচ্ছেন। বাড়ির পুরুষ কর্তারা সেগুলি ভ্যানে করে দুই শহরের পাড়ায় পাড়ায় খুচরো বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন মহিলারা। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে তাঁদের। ওই নির্দিষ্ট টাকা তাঁরা পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে এমন কাজ যথেষ্ট উৎসাহের সঙ্গে করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহানন্দা নদীর ধারে পুরাতন মালদহ শহর। সেখানে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপল্লি, লেবু বাগান, সোনাপল্লি, নেতাজি পল্লি, চাত্রামাঠ এলাকায় বহু পরিবারের বসবাস। তাঁদের মধ্যে ৩০০’র বেশি পরিবার মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। বছরভর তাঁরা মাটির গ্লাস, কলসি, টব বানান। দুর্গাপুজো পার হলেই বিশেষ করে মহিলারা সংসারের যাবতীয় কাজ সামলে প্রদীপ বানান। ১০০০ পিস প্রদীপ পাইকারি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। আলোর উৎসবে আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগে জোরকদমে প্রদীপ বানানোর কাজ চলছে।
২০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রদীপ তৈরি করে সুনিতা পালের পরিবার। তিনি বলেন, বাড়িতে সারা বছর মাটির কাজ হয়। তবে পুজোর সময় চাপ বেশি থাকে। সেজন্য স্বামী, ছেলে সবাই মিলে প্রদীপ বানানোর কাজ করি। বউমা বিয়ে হয়ে এসেছেন। তাঁকেও শিখিয়ে দিয়েছি। এতে ভালো আয় হয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ওষুধ সহ বিভিন্ন মাটির সরঞ্জাম কেনার কাজে লাগে। আমরা খুশি।
একইভাবে মাটির প্রদীপ বিক্রি করে সংসার চালান কবিতা পাল নামে এক বধূ। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমাদের অন্যতম সম্পদ। ওই টাকা সংসার এবং মাটির কাজে লাগাই। আমরা ৪০ হাজারের বেশি প্রদীপ বানাই। তারপর সেগুলি স্বামীকে গুছিয়ে দিই। এরপর পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বিক্রি করে ভালো উপার্জন করে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ হালদার মহিলাদের কাজের প্রশংসা করেছেন। মাটির প্রদীপ তৈরি করে রোদে শুকানো হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র