রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল। ভোটেকশী নদীর হড়পা বানে ছারখার বাড়ি, গাড়ি, সেতু। রাসুয়া জেলায় যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে মৃতদেহ। কাদাজলের মধ্যে এখনও জারি প্রাণের সন্ধান। ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। নিখোঁজ অসংখ্য। আর এই নিখোঁজদের মধ্যেই রয়েছে ব্রিটেনের ৩০ জনের বেশি নাগরিক।
দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডনের বাসিন্দা হেমা আমিন (৬৩) আলপাইন ইকো ট্রেক সংস্থার সঙ্গে নেপাল থেকে তিব্বত পর্যন্ত তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। আচমকাই বিপর্যয় নেমে আসে। স্বামী সুনীল আমিনের কথায়, ‘আমি সমানে ওকে ফোন করে যাচ্ছি। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি। এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ কৈলাস পর্বত ও মান সরোবর ভ্রমণে একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ লন্ডনের হিন্দু পুরোহিত নভিনন্দন দাস। স্ট্রিটহামের এই বাসিন্দা কাউলসডনের সনাতন মন্দির ও কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। নেপালে তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ ব্রিটেনের আরও ১১ জন। কৈলাস দর্শনে গিয়েছিলেন কেন্টের ড্যারেন্ট ভ্যালি হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সারদা সিমখাডা। এপর্যন্ত তাঁরও কোনো হদিশ মেলেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই শম্ভুর বার্তা, সুস্থ থেকো। তোমার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় আছি। ফিশটেল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস গ্রুপের সঙ্গে গিয়েছিলেন বার্কশায়ারের স্লাউয়ের একটি কেয়ার এজেন্সির ডিরেক্টর লীনা বেক্টর। তাঁরও সন্ধান মেলেনি।
নেপালি ট্যুর অপারেটর দ্য ট্রেকার্স সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যাওয়া ন’জন ব্রিটিশ নাগরিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন। এখনও পর্যন্ত কোনো হদিশ মেলেনি। কভেন্ট্রির বাসিন্দা মালা ও বিপিন প্যাটেলও তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ। বাবা-মায়ের তথ্য না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন ছেলে অনন্ত প্যাটেল। হড়পা বানে হারিয়ে গিয়েছেন সুমিত্রা পাউডেল। বৃহস্পতিবারই সুমিত্রার খোঁজে নেপালে পৌঁছেছেন তাঁর স্বামী। সাসেক্সে নেপালি স্ট্রিট ফুড কোম্পানি চালান প্রমোদ পাউডেল। চোখে-মুখে আতঙ্ক। অসহায়ভাবে তাঁর বক্তব্য, বন্যা এসে বাড়ি সহ সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। কারও কোনো খবর পাইনি। ইতিমধ্যে নেপাল সরকারকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটেন। এই বিপর্যয়ে মর্মাহত সেদেশের রাজা ও রানি।