Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

৫৫টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদ ২১ হাজারের বেশি: আরটিআই রিপোর্ট

কার্যত শিকেয় উঠেছে পঠন পাঠন। কারণ হাজার হাজার পদ খালি পড়ে রয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে। শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী মিলিয়ে দেশের মোট ৫৫টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদের সংখ্যা ২১ হাজারেরও কিছু বেশি।

৫৫টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদ ২১ হাজারের বেশি: আরটিআই রিপোর্ট
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কার্যত শিকেয় উঠেছে পঠন পাঠন। কারণ হাজার হাজার পদ খালি পড়ে রয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে। শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী মিলিয়ে দেশের মোট ৫৫টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদের সংখ্যা ২১ হাজারেরও কিছু বেশি। সাম্প্রতিক একটি আরটিআইয়ের তথ্যে এমনই ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই ওই আরটিআই তথ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ নিয়ে আদৌ কি সচেতন মোদি সরকার? নাকি পুরোটাই চলছে কাগজে কলমে? আপাতত এই প্রশ্নই উঠছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলে। 

Advertisement

সম্প্রতি এই বিষয়ে জানতে চেয়ে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে আবেদন করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড়। গত ২৫ জুলাই ওই আরটিআই আবেদনের জবাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানেই চোখ কপালে উঠে গিয়েছে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের। আরটিআইয়ের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৮৯টি। অশিক্ষক কর্মচারী পদ খালি রয়েছে মোট ১৬ হাজার ২৪৯টি। অর্থাৎ, দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী মিলিয়ে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ২১ হাজার ১৩৮টি। ওই আরটিআইয়ের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানিয়েছে, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৮ হাজার ৯৫১টি। অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭৭৫টি। এর অর্থ, দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রায় ২৬ শতাংশ পদই শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, অশিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৭ শতাংশ পদ খালি পড়ে রয়েছে। শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রে এতগুলো পদ খালি থাকলে সঙ্গত কারণেই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পঠন পাঠনে প্রভাব পড়তে বাধ্য। 
দেশের ৫৫টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলায় রয়েছে একটি। বিশ্বভারতী। দিল্লিতে রয়েছে ছ’টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অসম, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে রয়েছে দু’টি করে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এক্ষেত্রে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিছু শিক্ষক এবং অশিক্ষক পদে ‘ভ্যাকান্সি’র তথ্যও জানতে চেয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের ওই সমাজকর্মী। যদিও আরটিআইয়ে আলাদাভাবে সেই খতিয়ানের কোনও উল্লেখই করেনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। শূন্যপদের ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি, ইডব্লুএস, জেনারেল ক্যাটিগরির আলাদা উল্লেখ করারও আর্জি জানানো হয়েছিল। আরটিআইয়ে সেই জবাবও মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ