Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটার বাইরে, ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করতে পারবেন সাবালক আত্মীয়

ভোটারের ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করতে পারবেন তাঁর আত্মীয়রাও। তবে, ভোটারের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক, তা উল্লেখ করতে হবে।

ভোটার বাইরে, ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করতে পারবেন সাবালক আত্মীয়
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভোটারের ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করতে পারবেন তাঁর আত্মীয়রাও। তবে, ভোটারের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক, তা উল্লেখ করতে হবে। তারপর সই করে বিএলওর কাছে জমা করতে পারবেন। অর্থাৎ, পরিবারের কোনও সদস্য বাইরে থাকলে তাঁর ফর্ম পরিবারের অন্য কোনও সদস্য পূরণ করে জমা করতে পারেন। ফর্ম ফিলআপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে বাড়িতে আসারও প্রয়োজন নেই। সেই মতো ইনিউমারেশন ফর্মের নিচে সই করার জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সই বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। (অবশ্যই পরিবারের যে কোনও সাবালক সদস্যর সঙ্গে ভোটারের সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে)। শুধু তাই নয়, ভোটার অনলাইনের মাধ্যমে সেই ফর্ম পূরণ করতেও পারবেন। এমনকী, ২০০২ সালে ভোটার ছিলেন এমন আত্মীয়র সঙ্গে তাঁর নিজের লিংও ইলেকশন কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে করতে পারবেন। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ যদি ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ না করে জমা করে দেন, তাঁরও নাম ড্রাফট ভোটার তালিকায় তুলতে হবে। পরে ইআরও ভোটারকে নোটিশ করে তথ্য যাচা‌ই করবেন। কমিশনের একের পর এক নতুন নির্দেশিকা থেকে স্পষ্ট বিহারের এসআইআর থেকে শিক্ষা নিয়েছে কমিশন। ফলে, বাংলায় গোটা বিষয়টি অনেক সরলীকরণ ও ভোটারদের প্রতি অনেক নমনীয় মনোভাব দেখানো হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করা ভোটারের দায়িত্ব নয়।  বিএলওর দায়িত্ব ভোটারের কাছ থেকে তাঁর সংগ্রহ করার। সেই জন্য তিনি বার বার ভোটারের বাড়িতে যাবেন। প্রয়োজনে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন। 
বুধবার আসানসোলের সর্বদল বৈঠকের পর কমিশন যে খসড়া ইনিউমারেশন ফর্ম দেখিয়েছেন সেখানে আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ভোটারের বাবা বা মায়ের এপিক নম্বর দেওয়া বাধ্য‌তামূলক নয়। যদি থাকে তাহলে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শেষ এসআইআরে যদি বর্তমান ভোটারের নাম না থাকে তাহলে লিংকেজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাঁর যে আত্মীয়র শেষ এসআইআর অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তার তথ্য দিলেই হবে। এখানে উল্লেখ করা নেই বাবা বা মায়ের নামই থাকতে হবে। অর্থাৎ বাবা বা মায়ের নাম না থেকে যদি তাঁর অন্য কোন নিকট আত্মীয়র ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকে তাঁর সঙ্গেও লিংকেজ করা যাবে। নতুন নির্দেশিকা থেকেই স্পষ্ট, ভোটার সচেতন থাকলে তাঁর নাম বাদ যাওয়া কার্যত অসম্ভব। 
পশ্চিম বর্ধমানের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিএম পোন্নমবলম এস বলেন, ‘ইনিউমারেশন ফর্ম পরিবারের যেকোন সাবালক সদস্য সই করে জমা করতে পারবেন। এই নির্দেশিকা মঙ্গলবারই জারি করা হয়েছে।’ 
এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন) সুবাসিনী ই। সেখানে এসআইআরের পুরো প্রক্রিয়া বুঝিয়ে বলা হয়। রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিএলএদের তালিকা চাওয়া হয়। বিএলএদের সঙ্গে বিএলওরা সমন্বয় রেখে কাজ করবেন, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন, জেলায় চিত্তরঞ্জন, স্টিল টাউনশিপের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার নিজস্ব টাউনশিপ রয়েছে। বিএলএ নিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তাঁকে কোন সরকারি কর্মী হওয়া যাবে না। এই সব এলাকায় যাঁরা পার্টি করেন, তাঁরা তো সরকারি কর্মচারিই। তাই নিয়মটি বিবেচনা করা হোক। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধি উৎপল সিনহা বলেন, এসআইআর নিয়ে কমিশনের ভূমিকা আমরা নজর রাখছি। বিজেপি প্রতিনিধি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, অবশেষে এসআইআর হচ্ছে এটাই আমাদের প্রাথমিক জয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ