Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্তিত্ব বাঁচাতে ধান কাটার দায়িত্বও নিচ্ছে ফড়েরা

অস্তিত্ব বাঁচাতে ধান কাটার দায়িত্বও নিচ্ছে ফড়েরা
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চাষিদের থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান কিনতে তৎপর রাজ্য সরকার। কুইন্টাল প্রতি ধানের সহায়কমূল্য ২১৮৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩০০ টাকা করা হয়েছে। বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সমবায়কে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ধান সংগ্রহে নিযুক্ত করা হয়েছে। সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে চাষিদের উত্সাহও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ধান কাটার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে ফড়েরা। ধান কেটে ঝাড়াই করার যন্ত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে তারা হাজির হচ্ছে। চাষিদের মাঠের ধান কেটে তা সংগ্রহ করে আনছে তারা। মজুর লাগিয়ে ধান কাটার ঝক্কি এড়াতে অনেক চাষি তাঁদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
Advertisement
জেলা খাদ্য নিয়ামক অমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, চাষিদের ধান কিনতে এবার একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি করতে চাষিদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।শিল্প ও খনি অঞ্চলে ভরা পশ্চিম বর্ধমান জেলা ধান উৎপাদনে কোনওদিনই প্রথম সারিতে ছিল না। গত অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার এই জেলায় ৭০হাজার ১০০ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। গতবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। ৭২ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জেলা প্রশাসন ও খাদ্যদপ্তর কোমর বেঁধে নেমেছে।
গত বছর অবধি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১০টি ধান ক্রয়কেন্দ্র ছিল। তার মধ্যে সাতটি নির্দিষ্ট জায়গায় ছিল। বাকি তিনটি ছিল ভ্রাম্যমাণ ধান ক্রয়কেন্দ্র। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ করা হয়েছে। বারাবনি ও কাঁকসা ব্লকের বনকাটিতে নতুন দু’টি ধান ক্রয়কেন্দ্র হয়েছে। বাকি তিনটি ভ্রাম্যমাণ ক্রয়কেন্দ্র, অর্থাৎ গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধান সংগ্রহ করছে। ২ নভেম্বর থেকে জেলায় সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। এজন্য ১২হাজার চাষি রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ফড়েরা অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে। ২৩০০টাকা প্রতি কুইণ্টাল সহায়কমূল্যের সমান দাম দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁরা সস্তায় ধান কিনতে চাইলে চাষিদের বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। তাই তাঁরা চাষিদের ধান কেটে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়, বাঁকুড়া, বীরভূম সহ নানা জেলাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ধান কেটে নেওয়ার জন্য শুধু যন্ত্রের ভাড়াটি চাষিকে দিতে হচ্ছে। সেই যন্ত্র চালানোর জন্য কোনও মজুরি দিতে হচ্ছে না। এর পরিবর্তে সহায়কমূল্যের চেয়ে অনেক সস্তায় চাষিরা ফড়েদের ধান বিক্রি করছেন। প্রাথমিকভাবে ৬০ কেজি বস্তার জন্য ৯০০-১০০০ টাকা দাম দিচ্ছে তারা। এখন খেতমজুরের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই ধান কাটার ঝক্কি এড়াতে অনেক চাষি ফড়েদের কাছেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ