Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডে ছিনতাইয়ের মূল পাণ্ডা

ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডে ছিনতাইয়ের মূল পাণ্ডা
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছিল। বয়স্ক মহিলারা টার্গেট হচ্ছিলেন। চক্রের হদিশ না মেলায় পুলিসের উপর চাপ বাড়ছিল। গত শুক্রবার রাতে ওড়িশার বালেশ্বর টাউন থেকে চক্রের মূল পান্ডা আদিকারু বসন্ত সরককে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। বাড়ি মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলায়।  শনিবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামে ছিনতাই চক্রটি কয়েক মাস ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। মূলপান্ডা ধরা পড়তেই সামনে এসেছে ছিনতাই চক্রের নিখুঁত পরিকল্পনা। প্রতিরোধে অক্ষম বয়স্ক মহিলাদের মূলত টার্গেট করা হচ্ছিল। মধ্য বয়স্ক মহিলারাও বাদ যাচ্ছিলেন না। ভোর ও সকালবেলায় মূলত ছিনতাই করা হচ্ছিল। সেই সময় রাস্তায় লোকজন কম থাকেন। ঝাড়গ্ৰামে ছিনতাই করে ছিনতাইকারীরা দ্রুত ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে যাচ্ছিল। ছিনতাই করা গহনা ও অন্যান্য সামগ্ৰী জেলার সীমানা পেরিয়ে মূল পান্ডার হাতে তুলে দেওয়া হতো। ছিনতাই সামগ্ৰী মহারাষ্ট্রে পাচার করা হচ্ছিল। যার জেরে জেলার পুলিস প্রথমে চক্রটির হদিশ পাচ্ছিল না। পুলিসের ভূমিকা নিয়ে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। গোপীবল্লভপুর থানার পুলিস গত সপ্তাহে সোর্স মারফত খবর পায় চক্রের দুই সদস্য ঝাড়গ্রামে ঢুকে ফের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছে। পুলিস এরপরেই ফাঁদ পাতে। 
ঝাড়খণ্ড জেলার বাসিন্দা সোমদত্ত নায়েক ও রাজেশ শ্যামল ভাঁতহাড়িয়া এলাকায় ধরা পড়ে। তদন্তকারী দল চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের পুলিসের সহযোগিতা নেয়। বালেশ্বর থেকে এরপরেই মূল পান্ডা ধরা পড়ে। তদন্তে যুক্ত এক পুলিস অফিসার বলেন, গোপীবল্লভপুরের সমাধিপাড়া এলাকায় গত আগস্ট মাসে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটে। প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক বয়স্কা মহিলার গলা থেকে সোনার হার ছিনতাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন বাইক আরোহী দুই যুবকের ছবি আমাদের হাতে আসে। গোপীবল্লভপুর থানা এলাকায় আগেও কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঝাড়গ্রাম শহরে কিছুদিন আগে একই কৌশলে পরপর দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সব ক্ষেত্রেই বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করা হয়েছিল। সন্দেহভাজন দুই যুবকের ছবি মিলতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। চক্রের হদিশ পেতে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। 
গোপীবল্লভপুরের এসডিপিও পারভেজ সরফরাজ বলেন, চক্রটি ঝাড়গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ছিনতাই করত। দু’জনকে আগেই ধরা হয়েছে। চক্রের এই মূল পান্ডা। ছিনতাইয়ের সোনা গলিয়ে বিক্রি করে দিত। ছিনতাই সামগ্ৰী উদ্ধারের কাজ চলছে। শহরের রঘুনাথপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বাড়ির বয়স্ক মহিলারা ঘর থেকে বার হতে ভয় পাচ্ছিলেন। চক্রটি ধরা পড়ায় স্বস্তি বোধ করছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ