নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তিন মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া! টাকা চাইতে গেলে উড়ে আসছে হুমকি ও অশ্লীল গালিগালাজ। শুধু তাই নয়, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েও রয়েছে গাফিলতির অভিযোগ। বিজেপির হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে এমনই একাধিক অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে হাজির হলেন বিজেপিরই এক ‘আদি’ কর্মী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ যান সনাতন কেশবানন্দ মহারাজ নামে ওই বিজেপি কর্মী। তবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।
অভিযোগের সূত্রপাত হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালির একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে। সেটির নাম ‘কেশবানন্দ প্যালেস’। সনাতনের অভিযোগ, ‘ভোটের দেড় মাস আগে দলের কাজের জন্য আমার গেস্ট হাউসটি রেখা পাত্রকে ভাড়া দিয়েছিলাম। মাসিক ভাড়া ঠিক হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। তখনই আমি বিজেপিকে বাড়িটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ওই সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা হলেও বিজেপির জন্য ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় বাড়িটি দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।’ কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি সনাতনের। তাঁর বক্তব্য, পরপর তিন মাস গেস্ট হাউসের ভাড়া দেওয়া হয়নি। বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাঁদের ছিল, তাঁরা তা ঠিকমতো পালন করেননি। সনাতনের আরও অভিযোগ, পাওনা নিয়ে কথা বলতে গেলে রেখা পাত্র তাঁর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। এই অভিযোগ নিয়েই কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন সনাতন। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর। তাই সোমবার ফের অভিযোগ নিয়ে ‘জনতার দরবার’-এ আসেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো। কিন্তু এবারও সেই সুযোগ হল না! তবে সনাতনের পরিচয়ও ঘটনাটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এলাকায় তিনি দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত। গেরুয়া শিবিরের পরিভাষায় দলের ‘আদি’ কর্মী। আর সেই কর্মীই দলের এক বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হয়েছেন। ফলে বিজেপির অন্দরের বিবাদ ফের প্রকাশ্যে এল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এনিয়ে রেখা পাত্রকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। ফলে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রসঙ্গত, রেখা পাত্রর বিভিন্ন মন্তব্য ও কার্যকলাপ ঘিরে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। ক’দিন আগে লেবুখালি ফেরিঘাটে অটো না যাওয়ার ‘ফতোয়া’ জারি করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। তা নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল।