অভিষেক পাল, বহরমপুর: তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সৌদির ‘সাজানো’ ধর্মগুরুরা। বৃহস্পতিবার সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তাঁদের একজন বললেন, ‘রেজিনগরে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিচয় বিকৃত করা হয়েছে। অবিলম্বে আসল সত্য উদ্ঘাটিত হোক।’ বলেই আয়োজকদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দু’জনেই। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় গোটা জেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে কুরুচিকর আক্রমণও। বইছে নিন্দার ঝড়।
গত শনিবার প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আয়োজনে কোনও খামতি ছিল না। মাইক হেঁকে সকাল থেকেই প্রচার করা হয়। সৌদির দুই ক্কারীকে দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাতারে কাতারে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ হাজির হন। পরে ফাঁস হয়ে যায়, ওই দুই ক্কারী আসলে বাংলারই বাসিন্দা। একজনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর। অন্যজনের মুর্শিদাবাদে। দু’জনকে সাজিয়ে মঞ্চে হাজির করানো হয়েছিল। এবার তাঁদেরই অন্যতম পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা তথা ক্বারী আবদুল্লাহ এদিন ভিডিও বার্তায় বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন আয়োজকদের।
বাংলার দুই ক্কারীকে সৌদির বলে তুলে ধরতে নিখুঁত চিত্রনাট্যও সাজিয়েছিলেন আয়োজকরা। এমনটাই অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ অনুষ্ঠানের দিন দুপুরে ভরতপুর থেকে দু’জনকে ফুল দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো একটি গাড়িতে করে রেজিনগরে আনা হয়। সেখান থেকে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও দু’জনের কেউই জানতেন না, মঞ্চে সৌদির অতিথি বলে পরিচয় করানো হবে! যখনই তাঁরা সেটা টের পেলেন তখনই রীতিমতো মাথায় থাকা সাদা কাপড় দিয়ে বারবার মুখ ঢাকার চেষ্টা করছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের চোখে তাঁদের এই অস্বস্তি এড়ানোর ছবি এড়িয়ে যায়নি। এরপর দু’জনের আসল পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। এদিন সেই বিতর্ক আরও বেশি করে উস্কে দিয়েছেন আবদুল্লাহ সাহেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমাকে দাওয়াত দেন। কোনও এক মসজিদের ভিত্তি স্থাপন হবে। সেখানে আমাকে তিলাওয়াত করতে হবে। কিন্তু মসজিদে নাম কি, কারা আয়োজন করছে, কার তত্ত্বাবধানে আয়োজন হয়েছে, এসব একবারও আমাকে জানানো হয়নি। আমার কাছে শুধু বলা হয়েছিল, একটা মসজিদের ভিত্তি স্থাপন। আমার ওই বন্ধুকে ভরতপুরের সুফিয়ান নামে এক ব্যক্তি এই দাওয়াত দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে আমি তাঁদের কথা মতো সালার স্টেশনে নেমে রওনা হই। সেখানে পৌঁছনোর পর ওদের তরফ থেকে জানতে পারি, দাওয়াত অনুষ্ঠান আসলে হবে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে। মঞ্চে ওঠার আগে পর্যন্ত আমি একবারও জানতাম না যে, আমাকে আরব থেকে আসা অতিথি কিংবা সৌদির মেহমান বলে ঘোষণা করা হবে। যখন মঞ্চে ঘোষণা শুনলাম সৌদি থেকে দু’জন মেহমান এসেছে, তখন আমি হতভম্ব হয়ে যাই।’
এখানেই থেমে থাকেননি আবদুল্লাহ সাহেব। আয়োজকদের উপর গোটা ঘটনার দায় ঠেলে দিয়ে সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মঞ্চে এই ঘোষণা আমার সম্মতি ছাড়া এবং আমার অজ্ঞাতে করা হয়েছে। আমি ধোঁকা দিয়ে কাউকে প্রতারিত করিনি। বরং আমাকে ধোঁকা দিয়ে ভুল পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।’