Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উদ্যোক্তারা, কার্তিক লড়াইয়ে মেতে উঠবে বেলডাঙা

জগদ্ধাত্রী, ছটপুজো মিটতেই কার্তিক লড়াইয়ের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে বেলডাঙায়। পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরি চলছে জোরকদমে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উদ্যোক্তারা, কার্তিক লড়াইয়ে মেতে উঠবে বেলডাঙা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: জগদ্ধাত্রী, ছটপুজো মিটতেই কার্তিক লড়াইয়ের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে বেলডাঙায়। পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরি চলছে জোরকদমে। কার্তিক লড়াই হলেও শোভাযাত্রায় শিব, লক্ষ্মী, গণেশ, ভৈরব, বজরংবলী, বিশ্বকর্মা সহ একাধিক দেবদেবীকে নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। কার্তিক লড়াইয়ের দিন শোভাযাত্রায় বেলডাঙা শহরে ২০০-র বেশি দেবদেবীকে নিয়ে রাজপথে নামবেন ভক্তরা। রাস্তার দু’পাশ উৎসাহী ভক্তদের ঢল নামবে। উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কার্তিক লড়াইয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে পুলিস ও বেলডাঙা পুরসভা। আগামী ১৭নভেম্বর, সোমবার পুজো। তার পরের দিন কার্তিক লড়াই হবে।

Advertisement

ইতিহাসবিদদের মতে, চুঁচুড়ার সোম বংশের বলভদ্র সোমই বাংলায় প্রথম কার্তিকের পুজো শুরু করেন। ১৭৮০বঙ্গাব্দে সোম পরিবারে প্রথম কার্তিক পুজো হয়। তারপর হুগলি, বাঁশবেড়িয়া হয়ে কাটোয়া ঐতিহ্যবাহী কার্তিক লড়াই হিসেবে বাংলায় খ্যাতি লাভ করে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বেলডাঙায় হাতি কার্তিক দিয়েই কার্তিক পুজো শুরু হয়। ছুতোরপাড়ার এই কার্তিক ময়ূরে নয়, হাতির পিঠে অধিষ্ঠিত। এরপর একের পর এক কার্তিকের পুজো শুরু হয়। কাটোয়ার আদলে বেলডাঙার কার্তিক লড়াই শতাব্দীপ্রাচীন বলেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
কার্তিক লড়াই বা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মূর্তির উচ্চতা, আকৃতি ও সাজসজ্জা নিয়েও অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে। বুড়োশিব, সিক্স প্যাক শিব সহ বিভিন্ন আদলের ভৈরব জনপ্রিয়। বজরংবলীর মতো কিছু মূর্তি ১৫ থেকে ২০ফুট পর্যন্ত উচ্চতার হয়। নেতাজি পার্কের কমলেকামিনী, তাঁতিপাড়ার সরস্বতী, স্টেশন রোডের ভয়ঙ্করী বড়মা, হাঁড়িপাড়ার পারলে আটকে নিন নামে বিশ্বকর্মা শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ। নেতাজি পার্ক পুজো কমিটির সম্পাদক সুনীত দে বলেন, কার্তিক লড়াই বেলডাঙার ঐতিহ্য। শতাধিক বছর ধরে এখানে সুখ্যাতির সঙ্গে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শহরের বাসিন্দা নয়ন প্রামাণিক বলেন, এখানকার কার্তিক লড়াই দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ বেলডাঙায় পা রাখেন। সারা বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করে থাকি। কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন কার্তিক পুজো হয়। পরদিন বিসর্জন। সকাল ৯টা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয় বাড়ির ল্যাংটা কার্তিক দিয়ে। সময় যত গড়ায় শোভাযাত্রায় প্রতিমা বাড়তে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত বিসর্জন চলে। শাঁখারিপাড়ার স্কুলপড়ুয়া অমৃত সাহা নিজে প্রতিমা গড়ছে। সে বলে, ছোট থেকেই আমার মূর্তি গড়ার শখ। এবারও কার্তিক লড়াইয়ের শোভাযাত্রায় আমার হাতে তৈরি প্রতিমা থাকবে। 
 কার্তিক লড়াইয়ের জন্য বেলডাঙার শাখারিপাড়ায় মুর্তি গড়ছে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া অমৃত সাহা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ