সংবাদদাতা, বারুইপুর: দূর্গাপুজোর বাকি আর কয়েক দিন। বারুইপুরের শিখরবালি ১ পঞ্চায়েতের পালপাড়ায় উত্তম পালের মাটির পাত্রের কারখানাতে এখন চরম ব্যস্ততা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে উত্তমবাবু মগ্ন দেবীঘট রং করতে। বিহার, মধ্যেপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁর কাছে আসছে ফোন। দেওয়া হচ্ছে অর্ডার। পুজোর আগে বাজার ভালো হওয়ায় খুশি উত্তমবাবু।
বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে মাটির পাত্র তৈরির ব্যবসা উত্তমবাবুদের। বাবা গোপালচন্দ্র পালের কাছে এই কাজে হাতেখড়ি তাঁর। কারখানাতে কী হয় না– দেবীঘট থেকে শুরু করে মাটির হাঁড়ি, প্রদীপ, কুণ্ডহাঁড়ি, ঘট, ধুনুচি, ভাঁড়– সবই আছে। তৈরি থেকে রং করা– সবই নিজের হাতে করেন উত্তমবাবু। দেবীঘটে রং করতে করতে বলেন, গত মাসেই বিহার, মধ্যেপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড থেকে ফোন এসেছে। আমরা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। তা দেখেই ফোন করে দেবীঘট সহ পুজোর সামগ্রী নেওয়ার জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সেই কাজের তোড়জোড় চলছে। প্রায় ২০ পেটি করে দেবীঘট, কুণ্ডহাঁড়ি, প্রদীপ যাবে। গত বছর কিন্তু এতো আগে থেকে অর্ডার আসেনি।
উত্তমবাবু বলেন, দাম আয়ত্তের মধ্যেই রাখা হয়েছে। দেবীঘট ছোটো থেকে বড়ো- সব আছে। ৩৫০ টাকা সর্বোচ্চ দাম। কুণ্ডহাঁড়ি ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত আছে। ঘট ১০ টাকা থেকে শুরু। ধুনুচি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়। শুধু ভিন রাজ্য নয়, গড়িয়া, ক্যানিং, কলকাতা থেকেও অনেকে জিনিস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে উপাদানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যার মধ্যেও পড়তে হচ্ছে শিল্পীদের। সেকথা উল্লেখ করে উত্তমবাবু বলেন, মাটি আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। জোগান খুব কম। এর মধ্যেই আগে এক লরি মাটি ১৩ হাজার টাকা নিতো। এখন দাম দিতে হচ্ছে ৩০ হাজার। আবার বার্নিস ৮৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বেড়ে ১ হাজার টাকার কাছাকাছি। এই প্রতিবদ্ধকতার মধ্যেও কাজ চলছে। পুজোর কয়েকদিন আগে আরামবাগ থেকে রং করার মিস্ত্রিও আসবেন। কারণ সময়ের মধ্যে কাজ তুলে দিতে হবে। এই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন গৃহবধূ সবিতা নস্কর। তিনি বলেন, পুজোর জন্য দেবীঘট, কুণ্ডহাঁড়ির চাহিদা ভালোই আছে। তার জোগান দিতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাগাতার কাজ করতে হচ্ছে এখন।- -নিজস্ব চিত্র