নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ট্রেনের হুইসিল শুনলেই আন্ডারপাসের মুখে থেমে যান সাইকেল, বাইক, টোটোচালক থেকে পথচারীরা। কারণ, ট্রেন যাওয়ার সময় উপর থেকে মলমূত্র, থুতু বা অন্যান্য বর্জ্য পড়ার আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার চ্যাটার্জিপাড়া এবং দাসনগর আন্ডারপাসে এই দুর্ভোগ চলছে। অবশেষে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। সম্প্রতি রেলের ইঞ্জিনিয়ার এবং দাসনগর ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করে রেললাইনের নীচে বিশেষ সুরক্ষা শেড তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন।
চ্যাটার্জিপাড়ার নটবর পাল রোডের আন্ডারপাস এবং দাসনগর আন্ডারপাস হাওড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। বেলগাছিয়া মোড়, কোনা, সালকিয়া, হাওড়া-আমতা রোড, হাওড়া ময়দান ও ডোমজুড়-সহ একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অফিস ও স্কুলের ব্যস্ত সময়ে এখানে যানবাহনের চাপও থাকে সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্ডারপাসের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখায় একের পর এক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। অনেক পুরনো কোচের শৌচাগার থেকে বর্জ্য সরাসরি নীচে পড়ে। পাশাপাশি জানালা বা দরজা থেকে থুতু ফেলার ঘটনাও ঘটে। তাই ট্রেন না যাওয়া পর্যন্ত অনেকেই আন্ডারপাসে ঢুকতে চান না। ফলে দু’দিকেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।
এই সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাসনগর ট্রাফিক গার্ডের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব রেলকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তবে এতদিন বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। তবে সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পর রেললাইনের নীচে সুরক্ষা শেড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রেল সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমানে আন্ডারপাসে সর্বাধিক সাড়ে তিন মিটার উচ্চতার যান চলাচলের অনুমতি রয়েছে। শেড তৈরি হলে সেই উচ্চতা আরও কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনে রাস্তা আরও কিছুটা নীচু করার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বর্ষায় জল জমা রুখতে আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। নিত্যযাত্রীদের দাবি, পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শুধু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসানই নয়, যানজটও অনেকটাই কমবে। নিজস্ব চিত্র