নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও ফ্রিজের ভিতরে জ্যান্ত আরশোলা, কোথাও আবার ফ্রিজারে ঠাসা পচা ছত্রাক পড়া মাংস, কোথাও আবার রান্নাঘরের পরিবেশ চুড়ান্ত অপরিচ্ছন্ন! সরেজমিনে দেখা এমন নানা ‘অভিজ্ঞাতা’র ভিত্তিতে পুজোর মুখে কলকাতা শহরের ৪০টি রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করল কলকাতা পুরসভা। সেই সমস্ত রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে। সেই তালিকায় বেশ কিছু নামি বিরিয়ানি ও মোগলাই খানার দোকান এবং মিষ্টির দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার স্মিতা পান্ডে জানান, বহু জায়গাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানা হয়নি। ভেজাল থেকে শুরু করে পচে যাওয়া মাংস ফ্রিজারে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভুল-ত্রুটি শুধরে ওনারা পুরসভায় আবেদন জানাবে। খতিয়ে দেখে সন্তোষজনক মনে হলে ফের দোকান চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ভেজাল খাবার এবং অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগে শহরতলির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট-হোটেল এবং মিষ্টির দোকানও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। আচমকা পুজোর মুখে দোকানগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মীদের মধ্যেও কাজ হারানোর ভয় ধরেছে। ব্যবসা বন্ধ থাকলে পুজোর বোনাস মিলবে কি না, সেই আশঙ্কাও মাথাচারা দিয়েছে। এভাবে দোকান বন্ধ করা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকাতেও উঠেছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, শহরের মোট ৫৯২টি খাবারের দোকান সহ বাজারে অভিযান চালিয়ে ১২২৪ কিলো রান্না করা খাবার এবং মাংস সহ অন্যান্য কাঁচামাল ফেলে দেওয়া হয়েছে। ২০১টি দোকানকে সতর্কতামূলক নোটিসও দেওয়া হয়েছে।



