নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রাফিক চালানের ভুয়ো মেসেজে ক্লিক করে ফেলেছিলেন গৃহকর্তা। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে ডাউনলোড হয়ে যায় নকল ‘বাহন’ অ্যাপ। তারপরই হ্যাক হয়ে যায় ফোন। কিছুক্ষণ পর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় কিছু টাকা। দু’দিন বাদে তাঁর স্ত্রীর ফোনে মেসেজ আসে। সেই মেসেজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টও ফাঁকা করে দিয়েছে প্রতারকরা। স্বামীর ফোন হ্যাক করার সঙ্গে সঙ্গে পুরানো লেনদেনের সূত্র ধরে তাদের স্ক্যানারে চলে যায় স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। সেখান থেকে জালিয়াতরা হাপিস করে দেয় লক্ষাধিক টাকা।
ফুলবাগান থানা এলাকায় এমনই অভিনব সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। তাঁর নাম দীপক খেতাওয়াত। নারকেলডাঙা মেন রোডের একটি অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা তিনি। পুলিশকে দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ আগস্ট। ওইদিন আচমকা একটি ট্রাফিক জরিমানার ভুয়ো মেসেজ পান তিনি। মেসেজে বলা হয়, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। মেসেজ পড়ার জন্য দীপকবাবু সেখানে ক্লিক করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ‘এম-বাহন’ নামে একটি ভুয়ো অ্যাপ ডাউনলোড হয়ে যায় তাঁর মোবাইলে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপটি ডিলিট করে দেন তিনি। তাতে লাভ হয়নি। এরপর অপরিচিত নম্বর থেকে একের পর এক মেসেজ আসতে শুরু করে আইনজীবীর মোবাইলে। সব মেসেজই তিনি ডিলিট করে দেন। ওইদিন রাত আড়াইটে নাগাদ আইনজীবীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭ হাজার ৯৮৮ টাকা ডেবিট হয়ে যায়। পরেরদিন মোবাইল যাচাই করে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করেন অভিযোগকারী। এরপরের ঘটনাটাই আশ্চর্যের। অভিযোগ, গত ৩০ আগস্ট রাত ৩টে নাগাদ আইনজীবীর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হানা দেয় প্রতারকরা। পরেরদিন সকালে ব্যাংকের ডেবিট মেসেজ দেখে আঁতকে ওঠেন দীপকবাবুর স্ত্রী। একইভাবে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া যায় ১ লক্ষ ৬৬৯ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংকে ফোন করে দ্রুত ওই অ্যাকাউন্ট ব্লক করান আইনজীবী। দু’টি ঘটনাতেই সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ করেন গৃহকর্তা। ফুলবাগান থানা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আইনজীবীর মোবাইলে ভুয়ো অ্যাপ ডাউনলোড হওয়ায় সেটি হ্যাক করে জালিয়াতরা। সেখান থেকেই তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। অন্যথায়, স্বামীর মোবাইল নম্বরটি স্ত্রীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক থাকতে পারে। সেকারণেই স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়েছে। এই প্রতারণার নেপথ্যের রহস্য কী, তা এখন তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায়।