Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে প্রত্যাঘাত, অপারেশন সিন্দুর

মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা চালাল ভারতীয় সেনা।

পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে প্রত্যাঘাত, অপারেশন সিন্দুর
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার দু’সপ্তাহের মাথায় অবশেষে প্রত্যাঘাত। মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা চালাল ভারতীয় সেনা। ‘অপারেশন সিন্দুর’ কোডনেমে নিশানা বানানো হয়েছে মোট ন’টি সন্ত্রাসবাদী ডেরাকে। কোটলি, ভাওয়ালপুর এবং মুজফ্ফরাবাদের এইসব জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ভাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে লস্কর-ই-তোইবা প্রধান হাফিজ সইদ উপস্থিত ছিলেন বলে সেনা-গোয়েন্দা সূত্রে খবর। ভারতের প্রত্যাঘাতের কথা স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তান। পাক সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় মিসাইল হামলা চলেছে। পাল্টা হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদের তরফে। পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জখম অন্তত ১২। বুধবার সকালে সাড়ে দশটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। 

Advertisement

ভারতীয় সেনার তরফে জারি করা বিবৃতি বলা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে যেসব জায়গা থেকে জঙ্গি হামলার চক্রান্ত চলছিল, সেই ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও পাকিস্তানি সেনা কাঠামোকে নিশানা বানানো হয়নি। উত্তেজনা বৃদ্ধি আমাদের লক্ষ্য নয়। পাকিস্তানের পাল্টা হামলা প্রত্যাহত করতে ইতিমধ্যেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম চালু করে দিয়েছে ভারত। যে সব জায়গায় বসে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হানার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই ভারত আঘাত হেনেছে বলে মন্ত্রক বিবৃতিতে দাবি করেছে। ভারতীয় সেনার তরফে এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘ন্যায়বিচার মিলল। জয়হিন্দ।’
সূত্রের খবর, ব্রাহ্মস ক্রুজ মিসাইল ভারতীয় সীমান্ত পার থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিকে আঘাত হানে। কিছুক্ষণের  মধ্যে  সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। 
অপারেশন সিন্দুরের আকস্মিকতায় ল্যাজেগোবরে অবস্থা পাকিস্তানের। এদিন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হানার পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবার বেশ কয়েক জায়গায় পাক সেনা গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে পাকিস্তান সরকার। গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের  পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছিল গোটা দেশ। বদলারও দাবি উঠছিল। বিগত কয়েকদিন ধরে তিনবাহিনীর প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট একাধিক 
মন্ত্রকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেইমতো মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের প্রত্যঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ