সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে জল। ফলে, রবিবার বিকেলে ঘাটাল পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলারের স্ত্রী মনসা চৌধুরী (৯৫)’র দেহ ভেলায় করে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে দাহ করতে হল। তাঁর বাড়ি শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড পাঁচঘোরাতে। মনসাদেবী ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কানাইলাল চৌধুরীর স্ত্রী। কানাইবাবু অবশ্য বেশ কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছেন। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলার স্বরূপ মালিক বলেন, ‘বন্যার সময় আমাদের এলাকার কেউ মারা গেলে খুবই সমস্যা হয়। তাঁদের এভাবেই কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরি করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।’
জুন মাস শুরু হলেই ঘাটাল মহকুমার একাংশের মানুষের মনে উৎকণ্ঠা শুরু হয়। বর্ষা বিদায় না হওয়া পর্যন্ত ভাসতেই থাকে ঘাটাল মহকুমার অন্তত ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং দু’টি পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। শিলাবতী এবং ঝুমি নদীর জলস্ফীতি হলেই ওই সমস্ত এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যায়। রাস্তার উপর কম জল থাকলে কোনওরকমে হেঁটে পারাপার করতে হয়। বেশি জল থাকলে একমাত্র ভরসা ডিঙি বা নৌকা।
বন্যার সময় কেউ মারা গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, ‘বহু নৌকা মালিকের মধ্যে একটা সংস্কার থাকার কারণে তাঁরা দেহ নৌকাতে তোলেন না। কারণ, দেহ নৌকাতে তুললে পরে অনেক খরচ করে পুজো করে নৌকার ‘দোষ’ কাটিয়ে ‘শুদ্ধ’ করতে হয়। কানাইবাবু ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পর পর চার বারের কংগ্রেসি কাউন্সিলার। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর স্ত্রী মারা যেতে তাঁকেও কলাগাছের ভেলায় করে দাহ করতে নিয়ে যেতে হয়।’ বৃদ্ধার বড় মেয়ের ছেলে অরূপ মহিষ বলেন, ‘বার্ধক্য জনিত কারণে রবিবার দিদা মারা যান। বিকেলের দিকে কলাগাছের ভেলা তৈরি করে তার উপর দিদার দেহ চাপানো হয়। তারপর ডিঙিতে চেপে মৃতার ছেলে প্রশান্ত চৌধুরী সেই দড়ি ধরে ছিলেন। ওই ভাবেই প্রায় দেড় কিলোমিটার বন্যার জল পেরিয়ে ওয়ার্ডের শ্মাশানে মনসাদেবীকে দাহ করা হয়।’ ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘এটা একটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। ভেলায় করে নিয়ে যাওয়াটা ঝুঁকিরও বিষয় ছিল। প্রশাসনকে জানালে প্রশাসন স্পিডবোট পাঠিয়ে দেহটি যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করত। কিন্তু প্রশাসনকে এনিয়ে কিছু জানানো হয়নি।’
গত দু’দিন ধরে ঘাটাল মহকুমায় ফের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রূপনারায়ণ নদ অতিরিক্ত বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীতেও বিপদ সীমার কাছাকাছি জল। প্লাবিত এলাকাগুলিতে প্রশাসনের, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, সাংসদ দীপক (দেব) অধিকারীর উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ চলছে।-নিজস্ব চিত্র