বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: বজবজ থানা এলাকায় প্রায় ১৩২টি বারোয়ারি দুর্গোৎসব হয়। তার ভিতর একমাত্র বজবজের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের হালদারপাড়া সার্বজনীন মুখ্যমন্ত্রীর পুজোর অনুদান নেবে না বলে ঘোষণা করেছে। ৮২ বছরের এই পুজো কমিটির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণাকে সম্মান জানাতে এই সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ঘোষণার সময় বলেছিলেন, যাঁরা অনুদান নিতে চান না সে কথা আগাম জানিয়ে দিলে সরকারের পক্ষে ভালো হয়। হালদারপাড়া পুজো কমিটির সভাপতি জয়দেব দত্ত বলেন, গতবার পর্যন্ত আমাদের এই পুজো কমিটি অনুদান নিয়েছে। আসলে অনুদান না নিলে যদি সরকারের রোষানলে পড়তে হয়, এমন আশঙ্কা থেকেই কেউ অনুদানে অনীহা দেখায়নি। এবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন না নিতে চাইলে সরকারের পক্ষে ভালো হয়। বজবজে শতাধিক পুজোর অন্যতম বিগ বাজেটের (২০ লাখ) এই পুজো মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত বুঝতে পেরে সদর্থক পদক্ষেপ নিয়েছে। ১ লাখ টাকার অনুদান না নেওয়ার পিছনে আরও কতগুলি ভাবনা কাজ করেছে। প্রথমত পুজো করার মতো আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে আমাদের কমিটির। তা হলে কেন নেব? ওই টাকা যাদের সত্যি প্রয়োজন তাদের দিলে তারা ব্যবহার করতে পারবে। দ্বিতীয়ত আমাদের প্রতিমা, মণ্ডপ থেকে উপকরণ উৎকর্ষতার কারণে প্রতিবার সকলের নজর কেড়ে নেয়। বজবজ পুজো সমন্বয় কমিটির যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তাতে হালাদারপাড়া প্রতিবার প্রথম কিংবা দ্বিতীয় হয়। স্বাভাবিকভাবে আমাদের পুজোর একটা সম্মান রয়েছে। যা হারাতে নারাজ কমিটি। এবার হালদারপাড়া সার্বজনীন পুজো কমিটির থিম হল, ‘বাংলার কারুশিল্পের মুন্সিয়ানা-আলোয় আলোয় এবার সাবেকিয়ানা।’ তাই মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে ডোকরা, টেরাকোটা, আদিবাসী শিল্পকলার সঙ্গে আলপনাকে রেখে বাঁশ, বেতের কারুকাজে। বজবজ থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজো সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে অংশ নেওয়া সব পুজো কমিটি অনুদান নেবে বলেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হালদারপাড়া।



