নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান নিধি’ ও রাজ্য সরকারের ‘নতুন কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে নথিভুক্ত চাষিরাই শুধু সরকারের কাছে ধান বেচতে পারবেন। জেলাভিত্তিক এরকম চাষিদের চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালে নাম ওঠাবে কৃষিদপ্তর। দুটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত কোনো চাষি যদি সেই তালিকায় না-থাকেন তাহলেও তিনি নাম লিখিয়ে ধান বেচতে পারবেন। ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার ব্যাপারে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে খাদ্যদপ্তর। এবার ১ ডিসেম্বর থেকে ধান কেনা শুরু হবে। ১ নভেম্বর থেকে চাষিরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
এবার কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত কুইন্টাল প্রতি ২৪৪১ টাকা এমএসপির উপর অতিরিক্ত আরও ২০০ টাকা দিয়ে (মোট ২৬৪১ টাকা) সরকার ধান কিনবে বলে জানানো হয়েছে। একজন চাষি এক বা একাধিক দফায় সর্বোচ্চ ৪৫ কুইন্টাল ধান বেচতে পারবেন। তাঁর জমির পরিমাণ খতিয়ে দেখেই ধান কেনা হবে। বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, সরকারি সব নিয়ম মেনে ধান থেকে চাল তৈরি করবেন মিলাররা।
খাদ্যদপ্তর আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে মোট ২৪ লক্ষ ৬৬ হাজার টন ধান চাষিদের কাছ থেকে কেনা হবে। খাদ্যদপ্তর নিজে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কী পরিমাণ ধান কিনবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে ২৪ লক্ষ টন ধান কেনা হবে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতাভুক্ত ৬ কোটি রেশন গ্রাহকের জন্য চাল উৎপাদন করার মতো ধান কেনা হবে। রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত ২ কোটি ৭৫ লক্ষ রেশন গ্রাহক ছাড়াও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পের চাল কীভাবে জোগাড় করা হবে সেটা এখনো খাদ্যদপ্তর জানায়নি। তবে বিভাগীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রেশন ব্যবস্থা প্রভৃতির জন্য ধানক্রয়ের কোটা বাড়তে পারে। ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে সরকারি উদ্যোগে ৪৮ লক্ষ টন ধান কেনা হয়েছিল।