নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর জন্য দিন গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্যান্ডেলের বাঁশ পড়তেই শুরু হয়েছে কেনাকাটি। উইক-এন্ডে গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, হাতিবাগানে ক্রেতাদের থিকথিকে ভিড় এখন থেকেই। তবে এখন অনেকেই ভিড়ভাট্টা পছন্দ করেন না। ঘরে বসে স্মার্টফোনেই তাঁরা সেরে ফেলেন জামাকাপড়, জুতো থেকে প্রসাধন সামগ্রীর কেনাকাটা। নয়া প্রজন্মের বড় অংশের পছন্দ অনলাইন শপিং। আর সেখানেই ফাঁদ পেতেছে সাইবার প্রতারকরা! পুজোর কেনাকাটা শুরু হতেই ভুয়ো ই-কমার্স সাইটের ফাঁদে পড়ে টাকা খোয়ানোর অভিযোগ আসতে শুরু করেছে লালবাজারে। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৩০টির বেশি ভুয়ো ই-কমার্স ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে সাইবার বিভাগ। প্রতারণা এড়াতে শুরু হয়েছে সচেতনতা প্রচার।
কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার এক তরুণী জুতো কিনতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়েন। ফেসবুকে একটি পরিচিত ই-কমার্স সংস্থার বিজ্ঞাপনে জুতো দেখে পছন্দ হয় তাঁর। বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করে সাইটে ঢুকে পড়েন। জুতোর দামেও লোভনীয় ছাড়ের ‘অফার’ ছিল। আট হাজারের জুতো ৫ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেখে দেরি করেননি। ইউপিআই ওয়ালেটের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দেন। ৩ দিনের মধ্যে নতুন জুতো এসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়িতে কিছুই এসে পৌঁছয়নি। তখন সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর ‘অর্ডার ডিটেইলস’টাই ভুয়ো। সংস্থার রেজিস্টারে এই ‘ডিটেইলস’-এর কোনও অস্তিত্ব নেই। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে কলকাতা পুলিসে অভিযোগ করেন তরুণী। সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর, এমন একাধিক অভিযোগ আসছে।
লালবাজার জানিয়েছে, একই লোগো ও নাম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেড সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। হুবহু আসলের মতোই বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ‘ক্লিক’ করলেই বিপদ! তাই পুলিসের পরামর্শ, পরিচিত ই-কমার্স সাইটের অ্যাপ বা বৈধ ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করা যেতেই পারে। কিন্তু, কোনও বড় ছাড় বা বিজ্ঞাপনের টোপের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু বৈধ ওয়েবসাইট কীভাবে চেনা যাবে? সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গুগল, সাফারি বা অন্য কোনও পরিচিত সার্চ ইঞ্জিন থেকে ই-কমার্স সাইটের ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে কেনা যেতে পারে। সেই সঙ্গে পেমেন্টের জন্য ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছে পুলিস।