নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অনলাইনে শেয়ারে লগ্নির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানা এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল জলপাইগুড়ির সাইবার পুলিস। ধৃতের নাম মাসুদ হোসেন। ওই ব্যক্তি বড়সড় সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে। পুলিসের দাবি, চক্রের জাল সুদূর কম্বোডিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের সাহায্য নিয়ে জলপাইগুড়ির সাইবার পুলিস মাসুদকে ধরতে অভিযান চালায়। হরিহরপাড়ার মাঠপাড়া এলাকায় মাসুদের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিস ল্যাপটপ, মোবাইল, সোয়াইপ মেশিন, বিভিন্ন ব্যক্তির আধার কার্ড, অন্যের ব্যাঙ্কের পাসবুক সহ নানা সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তার করে।
জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিস সুপার (হেড কোয়ার্টার) শৌভনিক মুখোপাধ্যায় বলেন, ধৃত নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত। তার ভিজিটিং কার্ডও মিলেছে। ভুয়ো পরিচয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে আধার কার্ড জোগাড় করত সে। তারপর ওই আধার দিয়ে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। ওইসব অ্যাকাউন্ট সামনে রেখে অনলাইনে লগ্নির টোপ দেওয়ার পর টাকা ঢোকামাত্র এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যটিতে তা ট্রান্সফার করা হচ্ছিল। মুর্শিদাবাদ পুলিসের কাছেও মাসুদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অনেকের সঙ্গেই সে সাইবার প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। আদালত ধৃতকে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
গত বছর ৬ অক্টোবর জলপাইগুড়ি শহরের আদরপাড়ার বাসিন্দা এক যুবক সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগে জানান। বিভিন্ন সংস্থার নাম করে তাঁর ফোন নম্বরে লিঙ্ক পাঠানো হয়। বলা হয়, ওই সংস্থায় শেয়ারে টাকা লগ্নি করলে ভালো লভ্যাংশ মিলবে। এনিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে বিষয়টি বোঝানো হয় তাঁকে। ধাপে ধাপে মোট ২০ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা দেন ওই যুবক। কিন্তু কিছুদিন হয়ে গেলেও কোনও লভ্যাংশ ঢুকছে না দেখে তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই তিনি পুলিসের দ্বারস্থ হন। পুলিস সূত্রে খবর, যুবকের কাছে যে হোয়াটসঅ্যাপ কল এসেছিল, তাতে কম্বোডিয়া যোগ মিলেছে। শনিবার জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিস সুপার বলেন, ওই যুবক শেয়ারে লগ্নির জন্য অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে যে ২০ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা একটি বিজনেস অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। ওই অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই মাসুদের খোঁজ মেলে। গোটা চক্রে কয়েকটি স্তর রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ। চক্রের আরও অনেকে গ্রেপ্তার হবে। টাকাও উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। নিজস্ব চিত্র।