Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটিগাড়ায় অনলাইন ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার জাল, বাজেয়াপ্ত ধৃতের ল্যাপটপ, ডায়েরি

মাটিগাড়ায় অনলাইন কমিউনিকেশন ব্যবসার আড়ালেই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল স্বদেশ বর্মন

মাটিগাড়ায় অনলাইন ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার জাল, বাজেয়াপ্ত ধৃতের ল্যাপটপ, ডায়েরি
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মাটিগাড়ায় অনলাইন কমিউনিকেশন ব্যবসার আড়ালেই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল স্বদেশ বর্মন। চারদিন ধরে ধৃতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে মাটিগাড়া থানার পুলিস। সোমবার তারা ধৃতের ডেরা থেকে ল্যাপটপ, আটটি ডায়েরি ও কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃতের সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। এদিকে, ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন আরও দু’জন গ্রামবাসী। অভিযোগ, চার থেকে পাঁচ মাসে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিল ধৃত। গ্রামে এনিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

Advertisement

মাটিগাড়ার পেলকুজোতে ছিল ধৃতের আস্তানা। দোতলা বাড়ির নীচতলায় হোটেল। দোতলায় ধৃতের অনলাইন ব্যবসার অফিস ছিল। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বক্ষণ ল্যাপটপের সামনে বসে অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করত ধৃত। আর মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে ব্যবসার লেনদের নিয়ে আলোচনা করত। এদিন সেই অফিসে হানা দেয় পুলিস। তারা সেখান থেকে ধৃতের একটি ল্যাপটপ, আটটি ডায়েরি ও লেনদেন সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে। 
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস অফিসাররা জানান, ডায়েরিগুলিতে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য লেখা রয়েছে। সেগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করা। ডায়েরিগুলি সামনে রেখে ধৃতকে জেরা করা হবে। পাশাপাশি ধৃতের ল্যাপটপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ধৃতের ডেরা থেকে কিছু তথ্য মিলেছে। সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। 
একইসঙ্গে ধৃতের বেশকিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে পুলিস। তারা সেই অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে তারা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে খবর। পুলিস সূত্রের খবর, ধৃতের নামে এখনও পর্যন্ত সাতটি অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে তোলা টাকা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে রাখত। ব্যাঙ্ক সহ আর্থিক অপরাধ দমন সংস্থার নজর এড়াতেই সে এমন কৌশল নিয়েছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা ধৃত ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করত। ইতিমধ্যে ধৃতের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে। ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বলেন, ধৃতের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্তে সেগুলির লেনদেনের হিসেব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ স্বদেশের বিরুদ্ধে মাটিগাড়া থানার মেডিক্যাল ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেন চোপড়ার বাসিন্দা প্রদীপ সিং। ওই দিনই পুলিস স্বদেশকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ধৃতের বিরুদ্ধে সরব হন গ্রামবাসীদের একাংশ। ইতিমধ্যে আরও দু’জন গ্রামবাসী ধৃতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিসের এক অফিসার বলেন, কত বছর ধরে ধৃত এই কারবার চালাচ্ছিল, কতজন গ্রামবাসীর কাছ থেকে কত টাকা তুলেছে তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা চলছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ