নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার ওড়িয়াপাড়ায় দুষ্কৃতীদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় চলল গুলি। রবিবার গভীর রাতে আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। গুলিবিদ্ধ হয় তারক বারিক নামে এক স্থানীয় দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। পলাতক আরও দুই দুষ্কৃতী। তাদের নাম সুচিত সিং ও রাজ পান্ডে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওড়িয়াপাড়া এলাকার এক অপরিসর গলিতে একটি মন্দিরের সামনে তিন-চারজন দুষ্কৃতী নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়ায়। তাদের মধ্যে একজন ছিল বহিরাগত। প্রত্যেকেই মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। তাদের চিৎকারে বিরক্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন প্রতিবাদ করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উলটে বচসা চরমে ওঠে। সেই সময় বহিরাগত ওই যুবক আচমকা পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। ওই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তিন দুষ্কৃতীর মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি বিপজ্জনক বুঝে কয়েকজন বাসিন্দা চিৎকার করলে দুষ্কৃতীরা পালানোর চেষ্টা করে। তখনই আচমকা গুলি চালিয়ে দেয় এক দুষ্কৃতী। পায়ে গুলি লেগে জখম হয় তারক বারিক। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাকিরা চম্পট দেয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সে পুলিশ। আহত যুবককে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ও পলাতক প্রত্যেকেই একই গ্যাংয়ের সদস্য। টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই তাদের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল। সেই সময় গুলি চলে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই দুষ্কৃতীরা রাতে এলাকায় একসঙ্গে বসে মদ্যপান করছিল। এরপর কলকাতার এক নিষিদ্ধপল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তার আগে টাকা নিয়ে বিবাদ হয়। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্যাংটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। গুলি চলার ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চালাল চৌধুরীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বেড়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে অপরাধীরা। তিনি বলেন, ‘রাতে পরিবার নিয়ে বাইরে বেরনোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।’