Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়াজুড়ে চলছে ওয়ান ফিঙ্গার জুয়া সর্বস্বান্ত গরিব, দু’হাতে টাকা লুট লালবাবু গ্যাংয়ের

চায়ের দোকান হোক, কিংবা পাড়ার মোড়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাটোয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ওয়ান ফিঙ্গার লটারি’।

কাটোয়াজুড়ে চলছে ওয়ান ফিঙ্গার জুয়া সর্বস্বান্ত গরিব, দু’হাতে টাকা লুট লালবাবু গ্যাংয়ের
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চায়ের দোকান হোক, কিংবা পাড়ার মোড়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাটোয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ওয়ান ফিঙ্গার লটারি’। সবাই সব জানে। অথচ কেউ কিছুই দেখেনি। এমনই মনোভাব ভাগরথীর পাড়ে। কারণ একটাই, লালবাবু গ্যাং। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে ভাগরথীতে বিলীন হয়ে যাওয়া মোটেই অসম্ভব নয়। প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাদের দহরম-মহরম। তাদের সঙ্গে হাসিমুখে আইনের রক্ষাকর্তাদের ছবি মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে কে? ওয়ান ফিঙ্গার লটারি বা জুয়ার খপ্পরে পড়ে দুঃস্থ পরিবারগুলি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই। এমনই বলছেন স্থানীয়রা। ঘুরপথে গরিবদের টাকা লুট করে এখন লালবাবুরা কোটিপতি। হাতে সোনার আংটি, গলায় হার, দামি পোশাক এবং তাদের বিলাসবহুল জীবন সেলিব্রিটিদেরও লজ্জা দেবে। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকানে চলছে এই জুয়া। পুরস্কার জেতার আশায় শ্রমিক, দিনমজুররা আয়ের বেশির ভাগ টাকা জুয়ায় লাগিয়ে দিচ্ছেন। দিনের শেষে তাঁরা খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

কীভাবে চলে ওয়ান ফিঙ্গার লটারি? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ান ফিঙ্গার লটারিতে এক থেকে নয়ের মধ্যে যেকোনও একটি নম্বর টাকা দিয়ে বুক করতে হয়। কেউ পাঁচ, আবার কেউ আট সংখ্যাকে লাকি নম্বর বলে মনে করেন। ওই নম্বর ধরে কেউ এক হাজার, আবার কেউ দেড় হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। কেউ কেউ অন্য নম্বরে বাজি রাখেন। একটি নামী লটারির প্রথম পুরস্কারের শেষ সংখ্যা ধরে এই খেলা হয়। ধরা যাক ওই নামী লটারিতে ৭৮৯ নম্বরে প্রথম পুরস্কার পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, ওয়ান ফিঙ্গার লটারিতে জয়ী নম্বর নয়। এই নম্বরে যাঁরা বাজি রাখেন, তাঁরা পাঁচ থেকে সাত গুণ টাকা পেয়ে যান। জুয়াড়িরা কোনও প্রমাণ রাখে না। তারা শুধু ক্রেতাদের পছন্দের নম্বরটি সাদা কাগজে লিখে রাখে। পুরস্কার পায় কয়েকজন। আর সর্বস্বান্ত হয় কয়েকশো জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাটোয়া শহর ছাড়াও আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার এই জুয়া খেলা হয়। পুরোটাই চালাচ্ছে লালবাবু গ্যাং। এই জুয়ার জন্য তারা ফ্র্যানচাইজি দিয়ে রেখেছে। লালবাবু গ্যাং যাদের অনুমতি দেয়, শুধু তারাই প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অধিকার পায়। ক্রেতা অনুযায়ী তারা কমিশন পায়। বাকি সব টাকা লালবাবুদের কাছে পাঠাতে হয়। তারা আবার বিভিন্ন জায়গায় প্রণামী পাঠায়। সেই কারণে নীরবে মৃত্যুফাঁদে জড়িয়ে গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় না।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, রাজস্ব না দিয়ে কোনও লটারি খেলা চললে তা অবৈধ। জেলায় কয়েকটি সংস্থা রাজস্ব না দিয়ে লটারি খেলার চেষ্টা করেছিল। মেমারিতে কয়েকদিন আগে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লক্ষ টাকার অবৈধ লটারির টিকিট উদ্ধার হয়। কাটোয়ায় ওয়ান ফিঙ্গার লটারির বিষয়টিও নজরে রয়েছে। কাটোয়া ছাড়াও আরও কয়েকটি থানা এলাকায় এই খেলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ