প্রীতেশ বসু, কলকাতা: এসআইআরকে কেন্দ্র করে দামামা বেজে গিয়েছে ২০২৬’এর বিধানসভা ভোটের। এই আবহেই ২৬’এর ভোটের পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজকর্মও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিল নবান্ন। দেড় বছর আগে হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচন বাবদ বকেয়া এখনও রাজ্যকে মেটায়নি কেন্দ্র। বকেয়ার অঙ্ক ১০৮০ কোটি টাকা। মেটানোর কথা কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের। সেই মোটা অঙ্কের বকেয়ার বোঝা মাথায় নিয়েই বৃহস্পতিবার ছাব্বিশের ভোটের প্রস্তুতি বৈঠক সেরে ফেললেন নবান্নের কর্তা ব্যক্তিরা। বিভিন্ন খাতের ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রাজ্যের প্রাপ্য দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে কেন্দ্র। আর্থিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও লড়াই চালাচ্ছে কেন্দ্র। এবার সেই প্রতিবন্ধকতা পর্বেই রাজ্যের কাঁধে বিধানসভা ভোট প্রস্তুতির বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের ভোট করানোর মূল দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসের। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা নির্বাচনী পরকাঠামো তৈরি সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব বর্তায় নবান্নের কাঁধে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশের সহযোগিতায় সেই কাজ করে পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর। স্ট্রংরুম, ইভিএম আদানপ্রদান স্থল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য অস্থায়ী রান্নাঘর, শৌচাগার তৈরি করে দিতে হয় রাজ্যকে। সেই সঙ্গে পানীয় জলের সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত আলো-পাখার ব্যবস্থাও করতে হয়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু, এবাবদ খরচ হওয়া ১০৮০ কোটি টাকা মেটায়নি কেন্দ্র। যদিও লোকসভা নির্বাচনের ১০০ শতাংশ খরচই দিতে বাধ্য কেন্দ্র। এখানেই ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, আরও একটা নির্বাচন এসে গেল, কিন্তু অডিটেড রিপোর্টের দোহাই দিয়ে আগের ভোটের টাকা আটকে রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত? কারণ, এবছর বুথের সংখ্যা বাড়লে, খরচও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে আগের টাকা না দিলে স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ বাড়বে।
তবে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ অর্থাৎ ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে নারাজ রাজ্য। সেই লক্ষ্যেই বৃস্পতিবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ডাকা বৈঠকে যোগ দিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। যেখানে ২০২৪ সালের মতো এবারও পূর্ত দপ্তর একটি পোর্টাল তৈরি করবে বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা ব্যবহার করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তর। কী কী কাজ হবে, তা প্রতিটি দপ্তরকে প্রথমে তুলতে হবে এই পোর্টালে। আবার টেন্ডার ডাকা, ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা থেকে শুরু কাজের বাস্তবায়নের উপর নজরদারি চলবে এই পোর্টালের মাধ্যমেই। দেখা যাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে কি না।
জানা গিয়েছে, কেন্দ্র টাকা না দিলেও সমস্ত ঠিকাদারদের টাকা মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, অডিটেড রিপোর্টও দেওয়া হয়েছে। এই কারণে এবারের কাজ করতে অনেকটাই সুবিধা হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। অথচ, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদের সমতুল্য আধিকারিকের ‘ডেলিগেশন অব ফাইনান্সিয়াল পাওয়ার’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে, সিইও অফিসে আর্থিক উপদেষ্টাও নিয়োগ করেছে নবান্ন।