দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর আগে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ঘোষণা ছিল, দেশে আরও পাঁচ থেকে ছ’টি রুটে শয়নযান বিশিষ্ট এই এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো হবে চলতি বছরেই। যদিও প্রস্তাবিত রুটগুলির নামোল্লেখ সেইসময় রেলমন্ত্রী করেননি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, বুধবার সংসদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সম্ভাব্য রুটের উল্লেখমাত্র করলেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এমনকি এসংক্রান্ত কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হল না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শুধুই চমকের রাজনীতি করতে এমন গালভরা ঘোষণা করা হয়েছিল? আদতে রেলের কাছে এব্যাপারে কোনো দিশাই নেই? নাহলে সরকারিভাবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সম্ভাব্য রুটের প্রসঙ্গ সরকারিভাবে স্বীকার করা হল না কেন? এবিষয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। এদিন লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ আনন্দ ভাদোরিয়ার প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, বন্দে ভারত স্লিপার সহ যেকোনো ট্রেনের পরিচালন একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের নতুন রুট নিয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা রেলমন্ত্রক না করলেও চেয়ার কার যুক্ত এই সেমি-হাইস্পিড ট্রেনের দু’টো রুট বন্ধ করছে কেন্দ্র। উত্তর-পশ্চিম রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, চলতি সপ্তাহেই উদয়পুর সিটি-আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট এবং উদয়পুর সিটি-জয়পুর রুটে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বন্ধ করা হচ্ছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি উল্লিখিত দু’টো রুটে শেষবারের মতো চলতে পারে ওই দুই বন্দে ভারত ট্রেন। এপ্রেক্ষিতেই রেলের বিরুদ্ধে সেমি-হাইস্পিড ট্রেনের পরিচালন ইস্যুতে দিশাহীনতার অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা।
বুধবার লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ১০১টি স্টেশনকে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। অথচ তিন বছরে রাজ্যের মাত্র তিনটি স্টেশনের মানোন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, বাংলার প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে কেন? জবাবে রেলমন্ত্রী সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন রাজ্য সরকারকে। বলেন, আপনার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন রেল প্রকল্পের কাজে গতি আনায় সহযোগিতা করতে। যত জমি প্রয়োজন, তার মাত্র ২৭ শতাংশ অধিগ্রহণ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাসত্ত্বেও বাংলার জন্য রেলের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইউপিএ আমলে বাংলা বছরে গড়ে মাত্র ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা করে পেত। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা বাড়িয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এদিন লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায় জানতে চান, ট্রেন লেটের কারণে গত ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড, থার্ড এবং স্লিপার ক্লাসের কত টিকিট বাতিল করেছেন যাত্রীরা? লিখিত জবাবে এপ্রশ্নের নির্দিষ্ট জবাব স্পষ্টই এড়িয়ে গিয়েছে রেলমন্ত্রক।