সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ধনদেবীর আরাধনার মধ্য দিয়েই বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে রাসের আবাহন শুরু হয়ে গেল। কোজাগরি পূর্ণিমায় নবদ্বীপের বেশিরভাগ রাসপুজো কমিটি অনেক রাত পর্যন্ত প্রতিমার কাঠামোপূজা করেছেন। এদিন বিভিন্ন রাসের প্রতিমার কাঠামো ফুলমালা ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়। মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়ে, পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে কাঠামো পুজো হয়েছে। কাঠামোপুজোকে ঘিরে বাজি ফাটানোর চল আছে। তাই শব্দবাজি যাতে ফাটানো না হয়, সেজন্য নবদ্বীপ থানার তরফে পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে আবেদন জানিয়ে সোমবার মাইকিং করা হয়েছে।নবদ্বীপ কেন্দ্রীয় রাস উৎসব কমিটির সভাপতি তথা পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, এত বড় উৎসবে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। এবারও ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা উৎসবের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। রাস উৎসবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনায় বসা হয়েছে।
৫নভেম্বর নবদ্বীপের রাস উৎসব হবে। সেজন্য সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রাসের প্রতিমার কাঠামোপুজো হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম যোগনাথতলার জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা, বড়ালঘাটের ভুবনেশ্বরী, হরিসভাপাড়ার ভদ্রকালী, রামসীতাপাড়ার বামাকালী, রণকালী, অমর ভারতী ক্লাবের গণেশজননী, রাধাবাজার পার্কের ডুমুরেশ্বরী, রয়েল ক্লাব ও বিশ্বজয়ী ক্লাবের পার্থসারথি, আমড়াতলা ও রয়েল সোসাইটির মহিষমর্দিনী মাতা, প্রাচীন মায়াপুর বাজারের শিব। এছাড়া, আরও অনেক পুজো কমিটির তরফে কাঠামোপুজো হয়েছে। প্রাচীন মায়াপুর শিবপুজো কমিটির সভাপতি রাম ঘোষ বলেন, এবার আমাদের পুজোর ৩৪তম বর্ষ। প্রতিবছরই কোজাগরী পূর্ণিমার দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে রাসের শিবপুজোর সূচনা হয়। পুরসভার চেয়ারম্যানের ঐকান্তিক চেষ্টায় চালু হওয়া কার্নিভাল রাস উৎসবে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবছরই আমরা কার্নিভালে অংশ নিয়ে কোনও না কোনও পুরস্কার পাই। এই প্রাচীন মায়াপুর এলাকায় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁরই টানে দেশবিদেশের মানুষ এশহরে আসেন। তাঁরাও এই রাস উৎসব উপভোগ করেন। শিবপুজো কমিটির সম্পাদক সমর মণ্ডল বলেন, এই পুজোর সঙ্গে প্রাচীন মায়াপুরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।