কী সুন্দর মায়াময় এই বিশাল পৃথিবী! সুনীল সাগর থেকে উত্তুঙ্গ পর্বতমালা, ঊষর মরুভূমি থেকে গহীন অরণ্য, গগনচুম্বী অট্টালিকার নগরী থেকে প্রাচীন জনপদ—সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। তারই সন্ধানে ছুটে বেড়ায় ভ্রমণ পিয়াসী মন। তাই তো পাখির ডানায় রৌদ্রের গন্ধ মেখে উড়ে চলা। দলবদ্ধভাবে কিংবা একা।
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: কম্বোডিয়ার বর্তমান রাজধানী নমপেন শহরটা সে দেশের বৃহত্তম শহর। রাজপথগুলো বেশ চওড়া। রাস্তার মোড়গুলো আইল্যান্ড দিয়ে সাজানো। সেই আইল্যান্ডগুলোর মধ্যে কোথাও রাখা আঙ্করনগরী থেকে আনা বিশাল বিশাল সব প্রাচীন স্মারক, বুদ্ধমূর্তি বা আধুনিক ম্যুরাল শিল্প সামগ্রী। আর সর্বত্রই সরকারি দপ্তর, হোটেল বা রাস্তার আইল্যান্ডে উড়তে দেখা যায় এ দেশের জাতীয় পতাকা। যার মধ্যে আঁকা আছে কম্বোডিয়ার শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য, তাদের জাতীয় স্মারক ইতিহাস প্রসিদ্ধ আঙ্করভাটের বিষ্ণুমন্দিরের ছবি। রাস্তাগুলোতে যেমন চলে দামি বিদেশি গাড়ি তেমনই চলে সাধারণ জনতার প্রিয় বাহন যন্ত্রচালিত রিকশ বা টুকটুক।
হোটেল থেকে বেলার দিকে একটা টুকটুক চেপে বেরিয়েছিলাম একটা বেসরকারি ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্যাঙ্কে ডলার ভাঙাবার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল ব্যাঙ্ক বন্ধ। নমপেন শহরে অনেক প্রতিষ্ঠানই দুপুরের পর খোলে, আর বন্ধ হয় মধ্য রাতে।
এদিন মধ্য রাতে কলকাতা ফেরার ফ্লাইট আমার। সারাদিনটা পড়ে আছে শহর ঘুরে দেখার জন্য। নমপেন শহর অবস্থিত মেকং নদীর পশ্চিম তীরে। আঙ্করভাট দর্শন করে সিয়েমরিপ শহর থেকে সড়ক পথে রাজধানী নমপেনে ফেরার সময় চোখে পড়েছিল মেকং ব-দ্বীপ। ঠিক করে রেখেছিলাম যে, এদিন মেকং নদী দেখতে যাব। টুকটুক ড্রাইভারকে বললাম সে কথা। ড্রাইভার আমাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে রাজি কিন্তু সে বুঝে উঠতে পারছিল না যে, আমি ঠিক কোন জায়গায় যেতে চাইছি। কারণটা ভাষার সমস্যা, উচ্চারণের সমস্যা। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, পড়েছি নদীর নাম মেকং। আমাদের উচ্চারণে ‘মেকং’ হলেও কম্বোডিয়ান উচ্চারণে তারা তাকে বলে ‘থনলে থম’। ড্রাইভারকে বোঝাবার জন্য হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল। আমি মোবাইলের সার্চ ইঞ্জিন খুলে টুকটুক ড্রাইভারকে একটা ছবি দেখালাম। মেকং নদী আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদ। সে প্রাসাদও আমি দেখব বলে ভেবে রেখেছি। এরপর নমপেনের গা বেয়ে চলা নদীর আরও বেশ কয়েকটা ছবি আমি তাকে দেখালাম। এবার সে আমার কথার মর্মোদ্ধার করতে পেরে মোবাইল স্ক্রিনে আঙুল ছুইয়ে হেসে বলল, ‘ইয়েস, ইয়েস, থনলে থম।’ অর্থাৎ তার ভাষায় নদীর নাম ‘থনলে থম’।
ব্যস্ত শহর। ফুটপাতে পথচারীর সংখ্যা বেশ। সে সব দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম আমার গন্তব্যে। টুকটুক রিকশ আমাকে রাস্তার গায়ে যেখানে নামিয়ে দিল তার এক পাশে সুন্দরভাবে সাজানো একটা ফাঁকা জমির ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে সোনালি রঙের কারুকার্য মণ্ডিত কম্বোডিয়ার রাজপ্রাসাদ। আর অন্য দিকে একটা পার্কের মতো অংশ এগিয়ে গিয়েছে নদীর গা বেয়ে। সেই নদীর দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে টুকটুক ড্রাইভার বলল—‘থনলে থম, থনলে থম।’ অর্থাৎ ওটাই মেকং নদী।
টুকটুকের ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম আগে রাজপ্রাসাদ দেখব। রাজপ্রাসাদের ভিতরের কিছুটা অংশ পর্যটকদের দেখতে দেওয়া হয়। সেগুলো দেখার পর মেকং নদী দেখব। কারণ, খোঁজ নিয়ে দেখেছি দুপুরে কিছু সময়ের জন্য প্রাসাদ তোরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগেই আমাকে দেখে নিতে হবে রাজার বাসস্থান। তারপর নদী দেখব। এগলাম প্রাসাদের দিকে। খামের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। যা অনেকটা প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডের অনুরূপ। এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন খামের রাজা নবেদম। দেড়শো বছর ধরে এ প্রাসাদ রাজারা ব্যবহার করে আসছেন। বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী এই প্রাসাদ। একটা সময় কম্বোডিয়ার স্বৈরাচারী কমিউনিস্ট শাসক পলপটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল এই প্রাসাদ। তবে সে সব ভয়ঙ্কর দিন এখন অতীত। এখন কম্বোডিয়ার শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচিত আইনসভা আছে ঠিকই সেখানে আইন প্রণয়ন হয়, প্রধানমন্ত্রীও আছেন। তবে সবার মাথার ওপর থাকেন রাজা। ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থার মতো। কম্বোডিয়ার কারেন্সি নোটে রাজাদের ছবি থাকে। রাজার নাম নরোডম সিহামানি। কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রধর্ম বৌদ্ধ। দেশটির নব্বই শতাংশের বেশি মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। বর্তমান রাজা থেরবাদী বৌদ্ধ। এ প্রাসাদকে স্থানীয় মানুষরা নরোডম প্রাসাদ বলেও ডাকেন। পলপটের শাসনকালে প্রাসাদ থেকে বহু মূল্যবান সামগ্রী লুঠ হয়েছিল। ভিয়েতনামের সাহায্যে এ দেশে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান হওয়ার পর আবার এ প্রাসাদেই বাস করতে শুরু করেন কম্বোডিয়ার রাজারা। নমপেন শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এটি। তাই পর্যটকদের লাইন টিকিট কাউন্টারে। হঠাৎ দেখলাম কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ ভদ্রলোক, ভদ্রমহিলা টিকিট কাউন্টারের সামনে পৌঁছেও টিকিট না পেয়ে হতাশভাবে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। কাউন্টারের সামনে পৌঁছে কারণটা বুঝতে পারলাম। কাউন্টারের গায়ে সাইন বোর্ডে লেখা আছে, স্থানীয় রীতি-নীতি ও সংস্কৃতি মেনে, তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতে হলে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ট্রাউজার এবং কাঁধ ঢাকা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। বুঝলাম ওই ইউরোপীয় নর-নারীদের পোশাক এই শর্ত পূরণ করেনি বলেই তাঁদের প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করার টিকিট দেওয়া হল না। ইতিপূর্বে আমি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশে মন্দির বা রাষ্ট্রীয় স্মারক স্থলে প্রবেশ করার ব্যাপারে নানা ধরনের পোশাক বিধি দেখেছি। কোথাও স্লিভলেস কিংবা হাফপ্যান্ট পরে প্রবেশ করা যায় না। কোথাও আবার প্রবেশ করতে হলে শুধু জুতো খুললেই হয় না, মোজাও খুলতে হয়। কোথাও মাথা ঢেকে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়, কোথাও আবার মাথায় টুপি দিয়ে প্রবেশ করা চলবে না। এক এক দেশে এক এক নিয়ম। যাইহোক, টিকিট কেটে কারুকার্য শোভিত সুবিশাল তোরণ অতিক্রম করে প্রবেশ করলাম প্রাসাদ চত্বরে। সেই চত্বর এক বিশাল আর ছড়ানো যে বাইরে থেকে দেখে তার আয়তন ঠিক অনুমান করা যায় না। তার স্থানে স্থানে রয়েছে বিশাল বিশাল সব আশ্চর্য সুন্দর স্থাপত্য, বাগিচা আর শান বাঁধানো প্রাঙ্গণ। হাতঘড়িতে দেখলাম, স্থানীয় সময় তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। কাউন্টারের গায়ে সাইন বোর্ডে লেখাছিল বেলা দুটোর মধ্যে পর্যটকদের প্রাসাদ ছেড়ে বেড়িয়ে যেতে হবে। তারপর আবার বিকেল চারটে থেকে ছ’টা দর্শকদের প্রবেশানুমতি মেলে। বুঝলাম, গাইডের সাহায্য ছাড়া এই প্রাসাদ কমপ্লেক্সের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো ভালোভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। সৌভাগ্যক্রমে দেখলাম আমার সামনে দাঁড়িয়ে দুই যুবক কথা বলছে যাদের টুপিতে ইন্ডিয়া লেখা। তারা ভারতীয় অনুমান করে এগিয়ে গেলাম তাদের কাছে। পরিচয় হওয়ার পর জানলাম তাঁরা কেরল থেকে এসেছে কম্বোডিয়া ভ্রমণের জন্য এবং তারাও গাইডের সন্ধান করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে একজন গাইড মিলে গেল। ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে শেয়ারে গাইড ঠিক করা হল। গাইড আমাদের প্রাসাদ কমপ্লেক্সের একদিকে কয়েকটা বিশাল স্থাপত্য দেখিয়ে বলল সে অংশে রাজা বাস করেন। গাইড এগতে এগতে আমাদের বলতে লাগল এই প্রাসাদের ইতিহাস। প্রথম রাজার আমলে নাকি এখানে কাঠের তৈরি প্রাসাদ ছিল, পরবর্তীতে তা ভেঙে পাথরের স্থাপত্য নির্মাণ করা হয়। বহু স্থাপত্য বিভিন্ন সময় নির্মাণ করা হয়। এক সময় এই প্রাসাদ পরিখা বেষ্টিত ছিল। প্রহরা দেওয়ার জন্য সেখানে কুমির ছাড়া থাকত। এখন অবশ্য তা বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চারপাশে নানা আশ্চর্য সুন্দর স্থাপত্য। তার গায়ে কোথাও আছে নানা অলঙ্করণ, কোথাও বা মূর্তি বা খামেরবাসীদের জীবনযাত্রা বা ধর্মীয় জীবনের চিত্র খোদিত। এক জায়গায় চোখে পড়ল আশ্চর্য সুন্দর এক কৃত্রিম ঝর্ণা। সে সব দেখতে দেখতে গাইড আমাদের নিয়ে প্রবেশ করল এক মন্দিরের মধ্যে। সেটি বুদ্ধ মন্দির ও উপাসনা গৃহ। নাম সিলভার প্যাগোডা। এই প্যাগোডা বা মন্দিরের মেঝে ঝকঝকে রুপোর পাত দিয়ে ঢাকা তাই এমন নামকরণ। প্যাগোডার অভ্যন্তরের স্তম্ভ, দেওয়াল, ছাদ সর্বত্রই উজ্জ্বল রঙে আঁকা বা খোদিত আছে আশ্চর্য সুন্দর অলঙ্করণ। তবে এই প্যাগোডার মূল আকর্ষণ হল দু’টি বুদ্ধ মূর্তি। একটি সোনা দিয়ে নির্মিত, অপরটি হাজারটির মতো হীরা ও মূল্যবান পাথর খোচিত। অবাক হয়ে যেতে হয় সেই মূর্তি থেকে নির্গত দ্যুতি দেখে।
এরপর আমাদের নিয়ে গাইড উপস্থিত হল আশ্চর্য সুন্দর উন্মুক্ত প্যাভিলিয়নে। তার নাম, মুনলাইট প্যাভিলিয়ন।
আবার আমরা চারপাশ দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম কমপ্লেক্সের একদম কেন্দ্রস্থলের দিকে। ফরাসিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে এখানে বেশ কয়েকটি স্থাপত্যে ফরাসি ছোঁয়া আছে। তবে সব স্থাপত্যর ভিতরের অংশ স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। গাইড আমাদের নিয়ে গেল কমপ্লেক্সের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘থ্রোন হল’ বা সিংহাসন হলের সামনে। প্রাসাদ কমপ্লেক্সের যে স্থানগুলো উন্মুক্ত তার মধ্যে এই সিংহাসন হলই সম্ভবত সব চাইতে আকর্ষণীয়। বেলেপাথর নির্মিত এই থ্রোন হল প্রাসাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানও বটে। এখানেই রাজাদের রাজ্যাভিষেক হয়, নানান গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আচার পালিত হয়। প্রয়োজন বোধে রাজা বা রানি এ স্থানেই আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক সময় এখানে আমজনতার জন্য দরবারও বসাতেন রাজারা। দু’টি বিশাল সিংহাসন রয়েছে এই হলে। অপূর্ব শিল্প সুষমা মণ্ডিত এই হল। কম্বোডিয়ার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক এই দরবার হল। এ স্থান ছেড়ে বেরবার পর গাইড আমাদের আরও বেশ কয়েকটি স্থাপত্যের ভিতর ঘুরিয়ে দেখাল। তার ভিতর কোথাও আছে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি, ফ্রেক্সো, রাজা-রানিদের প্রাচীন তৈলচিত্র, প্রাসাদের প্রাচীন ছবি, রয়েছে পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি। সব শেষে গাইড আমাদের দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে এক স্থাপত্যের অলিন্দে উঠিয়ে আনল। সে স্থান থেকে সম্পূর্ণ প্রাসাদ কমপ্লেক্স দেখা যায়। সে স্থান থেকে নামবার সময়ই নিরাপত্তাকর্মীদের বাঁশির শব্দ শোনা গেল। অর্থাৎ এবার দর্শনার্থীদের প্রাসাদ ত্যাগ করতে হবে। কীভাবে যে ঘণ্টা দুই-তিন সময় কেটে গেল তা বুঝতেই পারলাম না। প্রাসাদ কমপ্লেক্সের বাইরে বেরিয়ে আসার সঙ্গীদের থেকে বিদায় নিয়ে এগলাম মেকং নদীর দিকে।
ছেলেবেলায় ভূগোল বইতে পড়েছি, এশিয়ার সপ্তম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক এই নদীর কথা। তিব্বতীয় মালভূমি থেকে এ নদীর উৎপত্তি। তারপর চীন, মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া। ভিয়েতনামের মধ্যে দিয়ে মেকং প্রবাহিত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও জনজীবনের ইতিহাসে এ নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদী এখানে বেশ চওড়া। নদীর পাড় বরাবর চলে গিয়েছে টাইলস বাঁধানো চত্বর। গাছের নীচে বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বসার ব্যবস্থা আছে। হাঁটতে শুরু করলাম নদীর উপরিভাগের বাঁধানো পথ বেয়ে। তবে মধ্য দুপুর বলে সেখানে স্থানীয় মানুষ ছাড়া ট্যুরিস্টদের ভিড় তেমন নেই। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে সার সার প্রমোদতরী। সন্ধেবেলায় এগুলি পর্যটকদের মেকং নদী ভ্রমণ করায়। মাঝে মাঝে ওপর থেকে সিঁড়ি নেমে গিয়েছে জলের দিকে। নদী গ্রীষ্মকালে চঞ্চলা নয়, ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে জলরাশি। হাঁটতে হাঁটতে বেশ অনেকটা পথ অতিক্রম করে এক জায়গাতে এসে পৌঁছলাম। সেখানে ছোট ছোট জেলে নৌকা বাঁধা আছে। নৌকাগুলোর এক অংশ জলের ওপর উঠে থাকে। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে নৌকাগুলোর কাছে পৌঁছলাম। কয়েকটা নৌকাতে রান্না হচ্ছে। শুঁটকি মাছের গন্ধ ভেসে আসছে। কোন নৌকাতে আবার মাঝ ধরার জাল বোনা চলছে। বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মেকং নদী। ইচ্ছা ছিল মেকং নদীবক্ষে ভাসার। কথাও বললাম কয়েকজন নৌকাচালকের সঙ্গে। কিন্তু তারা জানাল নিরাপত্তার কারণে বিদেশি পর্যটকদের এইসব ছোট নৌকায় তোলার অনুমতি দেয় না পুলিস। তাই আমার এ ইচ্ছা পূর্ণ হল না। দুপুরবেলা নদী তটে বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলাম। আমার সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে মেকং নদী। চারপাশের পরিবেশ বেশ নিস্তব্ধ। মাঝে মাঝে মাছরাঙা শান্ত নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে মাছ শিকার করে ফিরে আসছে। অনেক দূরে কখনও বা চোখে পড়ছে বিন্দুর মতো কোনও নৌকা। মাথার ওপর মেঘ মুক্ত নীল আকাশ। সূর্য কিরণ স্থানে স্থানে চিকচিক করছে নদীর জলে। এক সময় খেয়াল হল বিকেল হয়ে আসছে। এবার আমাকে ফিরতে হবে। নদী সব সময়ই পবিত্র। তাই এক আঁচলা জল তুলে নিয়ে মাথায় ছিটিয়ে এরপর হোটেলে ফেরার জন্য রওনা হলাম মেকং নদীর স্মৃতি নিয়ে।