নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পুরোহিত ছাড়া পুজো হবে না। চিরাচরিত এই প্রথা ভাঙল জলপাইগুড়ি। স্কুল-কলেজে পুরোহিতের আসনে বসে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিদ্যার দেবীর বন্দনায় শামিল হল ছাত্রীরা। কোনও স্কুলে আবার পুরোহিতের আসনে দেখা গেল শিক্ষিকাকে। অন্যদিকে, পুরুষ পুরোহিত ছাড়া পুজো হয় না, এমন প্রাচীন সংস্কারের বেড়াজাল ভাঙতে জলপাইগুড়ি শহরে চুটিয়ে সরস্বতী পুজো করলেন ক্যানসার আক্রান্ত মহিলা শিখা চক্রবর্তী।
জলপাইগুড়ির অরবিন্দ মাধ্যমিক উচ্চতর বিদ্যালয়ে পুরোহিতের আসনে ছিল একাদশ শ্রেণির সাতজন ছাত্রী। সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি কারও যাতে বুঝতে অসুবিধা না হয়, সেজন্য বাংলায় তর্জমা করে দেয় তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষৌণিশ গুহ বলেন, স্কুলের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষিকা গত দেড় মাস ধরে ছাত্রীদের মন্ত্রপাঠের ট্রেনিং দিয়েছেন। এদিন ওরা পুরোহিতের আসনে বসে দারুণভাবে সরস্বতীপুজো সুসম্পন্ন করেছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, পুরোহিত ছাড়া পুজো হবে না, চিরাচরিত প্রথা ভাঙতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র শিক্ষক শিক্ষণ কলেজেও পুরোহিতের আসনে দেখা যায় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অদিতি বক্সিকে। সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর হোম-যজ্ঞ করেন তিনি। পুজো শেষে অদিতি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকেই কেউ একজন সরস্বতী পুজো করবে, এটাই আমাদের কলেজের রীতি। গতবার আমি পুজো করি। এবারও আমাকেই পুরোহিতের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আমি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। বাবা পুলক বক্সির কাছ থেকে তালিম নিয়ে পুজো করেছি। পুরোহিতের আসনে যে মেয়েরাও বসতে পারে, এটা প্রমাণ করতে পেরে ভালো লাগছে।
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে চলা জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা শিখা চক্রবর্তী এদিন অন্তত দশটি বাড়িতে পুজো করেন। তাঁর কথায়, পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও যে পুরোহিত হিসেবে পুজো-পার্বন করতে পারেন, এটা প্রতিষ্ঠিত করাই আমার লড়াই। শিখা বলেন, নিজের মারণ রোগ, সঙ্গে স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পেটের তাগিদেই শাস্ত্র পড়তে শুরু করি। বাড়িতে চল ছিল, ফলে পুরোহিত হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সময় লাগেনি। কিন্তু পুরোহিতের আসনে আমাকে মেনে নিতে সমাজের অনেক সময় লেগেছে। জলপাইগুড়ি মোহিতনগর তারাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সরস্বতী পুজোয় পুরোহিতের আসনে ছিলেন শিক্ষিকা ইপ্সিতা গঙ্গোপাধ্যায়। • আনন্দচন্দ্র কলেজে পুজো করছেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অদিতি বক্সি। - নিজস্ব চিত্র।