নৈহাটির দে বাড়িতে নবমীতে  ১০৮টি পদ্মের পুজো পান মা
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: সাধারণত সন্ধিপুজোর সময় ১০৮টি পদ্মফুল দিয়ে মাকে পুজো করা হয়। কিন্তু নৈহাটির দে বাড়ির বৈশিষ্ট্য হল, সন্ধিপুজো নয়, নবমী পুজোয় মাকে ১০৮টি পদ্ম দিয়ে পুজো করা হয়। সেদিনই হয় কুমারী পুজো। বছরের পর বছর এই পরম্পরা চলে আসছে। এ বংশের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশের ঢাকা বিক্রমপুরে মা দুর্গার পুজো শুরু করেছিলেন। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। দেশভাগের পর এপারে চলে আসেন অশ্বিনীকুমার দে। তিনি ছিলেন কবিরাজ। পূর্বপুরুষদের রীতিনীতি মেনে ফের দুর্গাপুজো শুরু করেন তিনি। রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজো করে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।

Advertisement

নৈহাটিতে বড়মার মন্দির লাগোয়া অরবিন্দ রোডের উপর এই বাড়ি ভবানী ঔষধালয় বলে পরিচিত। অশ্বিনীবাবুই ওই ওষুধের দোকান চালু করেন। পরবর্তীকালে তাঁর ছেলে ফার্মাসি নিয়ে পড়াশোনা করেন। অশ্বিনীবাবুর নাতিরা বলেন, দেশভাগের সময় ঢাকা বিক্রমপুর থেকে গোটা পরিবার নৈহাটিতে চলে আসে। ঠাকুমা পারুলবালা দে’র ইছায় বাড়িতেই ফের দুর্গাপুজো শুরু হয়। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল, রথযাত্রার দিন মায়ের স্থায়ী কাঠামোতে বাড়ির বউমারা পুজো করেন। বাড়িতেই গড়া হয় প্রতিমা।  
অশ্বিনীবাবুর ছেলে অরুণ উদয় দে এবং তাঁর দুই ছেলে অপ্রমেয় দে ও অভ্রশুভ্র দে এই পুজোর হর্তাকর্তা। ষষ্ঠীতে বোধন, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীতে মহাভোগ হয়। ভোগে থাকে মায়ের প্রিয় কচুশাক, খিচুড়ি, তরকারি, চাটনি, পায়েস। ওইদিন প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার লোক পাত পেড়ে খান। নবমীতে মাকে ১০৮টি পদ্ম দিয়ে পুজো করা হয়। ওইদিনই হয় কুমারী পুজো। দশমীতে মাকে পান্তা ভাত আর কচুশাক ভোগ দেওয়া হয়। সূর্যাস্তের পর প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।
পুজোর চারদিন যাঁরা বড়মার মন্দিরে দর্শন করতে আসেন, তাঁরা এই বাড়িতেও একবার ঢুঁ মেরে যান। এখানে একটানা ৭০ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে জোরকদমে তার প্রস্তুতি চলছে। পুজোর আয়োজন কতদূর, বাড়ির মেয়েরা আমেরিকা থেকে নিয়মিত খোঁজখবর করছেন।