Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির নয়া জেলা কমিটিতে প্রাধান্য পেলেন পুরনোরাই

কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার এই  দুই জেলায় বিজেপির নয়া জেলা কমিটিতে পুরনোদের অগ্রধিকার দিয়েছে দল। আদি-নব্য মিলিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি নেতৃত্বের।

বিজেপির নয়া জেলা কমিটিতে প্রাধান্য পেলেন পুরনোরাই
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার এই  দুই জেলায় বিজেপির নয়া জেলা কমিটিতে পুরনোদের অগ্রধিকার দিয়েছে দল। আদি-নব্য মিলিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি নেতৃত্বের। নয়া কমিটি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের রুখতে ঝাঁপাবে বলা হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, অনেক আগেই ওদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। বিজেপি দিবাস্বপ্ন দেখছে। 

Advertisement

দেরিতে হলেও নতুন, পুরনোদের নিয়ে ৯১ জনের জেলা কমিটি গঠন করে কোচবিহারে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে পদ্ম পার্টি। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলে ভাঙন ধরে। পরবর্তীতে সিতাই বিধানসভা উপনির্বাচনে পরাজয় জেলায় দলের সংগঠনকে আরও বিপাকে ফেলে দেয়। বহু এলাকার নেতা-কর্মীরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। দলের রাশ আলগা হতেই সুকুমার রায়কে সরিয়ে অভিজিৎ বর্মনকে সভাপতি করে দল। কিন্তু তারপরেও জেলা কমিটি গঠন না হওয়ায় দলেই চর্চা চলছিল। জেলা কমিটিতে কারা স্থান পাবেন তা নিয়েও দলে জল্পনা ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে বিজেপির জেলা কমিটি ঘোষণা হয়। 
প্রচুর পুরানো মুখ জেলা কমিটিতে এসেছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজন বসে গিয়েছিলেন। বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, আমরা সকলে মিলেই কাজ করব। যে যেমন ভাষা বোঝেন নতুন জেলা কমিটি তাঁকে তেমন ভাষাতেই জবাব দেবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। 
কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূল নেতা পার্থপ্রতিম রায় বলেন, এটা বলতে পারি বাংলা বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে ওদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে ওরা। 
এদিকে,আলিপুরদুয়ারেও পুরনো নেতাদের উপরেই আস্থা রাখল গেরুয়া শিবির। নতুন জেলা কমিটির তালিকায় দলের পুরনো নেতাদেরই ছড়াছড়ি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ছাব্বিশের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া  বিজেপি নেতৃত্ব বাধ্য হয়ে জেলা কমিটিতে আদি নেতা-কর্মীদের প্রাধান্য দিয়েছে। চব্বিশের লোকসভা ভোট থেকেই চা বলয়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে ধস নামা শুরু হয়েছে। উনিশের লোকসভায় বিজেপি আলিপুরদুয়ারে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে জিতেছিল। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা ভোটে জিতলেও বিজেপির ভোট নেমে এসেছিল মাত্র ৭৬ হাজারে। আবার গত বছরের নভেম্বরে মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের কাছে গোহারা হারতে হয় তাদের। বর্তমানে চা বাগানগুলিতে বিজেপির ট্রেড ইউনিয়ন বিটিডব্লুইউয়ের সংগঠনেও ছন্নছাড়া অবস্থা। ক্রমান্বয়ে ভোট কমতে থাকায় আতঙ্কিত জেলা বিজেপির নেতারা। দলের ২৬ জনের নতুন কমিটিতে পুরনো কমিটিরই ১৬ জন রয়েছেন। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, আদি-নব্য বলে কিছু নেই। আসলে দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই জেলা কমিটিতে তাঁদের বেশি করে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। 
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক জেলা পরিষদের মেন্টর মৃদুল গোস্বামী অবশ্য বলেন, জেলায় বিজেপি মাটি হারিয়েছে। তাই ঘুরে দাঁড়াতে বিজেপি  জেলা কমিটিতে আদি নেতাদের বেশি করে ঠাঁই দিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ