নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বয়স ৬২। দুর্ঘটনায় পা কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রবল ঠান্ডার মধ্যে তাঁকে ক্র্যাচে ভর দিয়েই আসতে হল এসআইআর শুনানিতে। জলপাইগুড়িতে শুনানির হাত থেকে রেহাই পেলেন না ‘ভিক্ষুক’! শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হল দৃষ্টিহীন বৃদ্ধকেও। টোটোয় চেপে শুনানিকেন্দ্রে আসতে হল স্ট্রোকের রোগীকেও। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির ইন্দিরা কলোনির আরটিসিতে দিনভর এ ধরনের ঘটনার সাক্ষী হয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব।
এদিন জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রফুল্ল রায় নামে এক বৃদ্ধকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে শুনানিকেন্দ্রে আসতে দেখা যায়। জিজ্ঞেস করতে বলেন, আমি হাঁটাচলা করতে পারি না। কোনওমতে বসে বসে একটা পানের দোকান চালাই। কিন্তু এসআইআর শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে আমাকে। ফলে বাধ্য হয়ে কষ্ট করে আসতে হল। মোহিতনগর থেকে জলপাইগুড়ির ইন্দিরা কলোনির শুনানিকেন্দ্রে এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব দিলীপ রায়। ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলে তাঁর। বললেন, একে তো ঠান্ডার জন্য ভিক্ষা করতে বের হতে পারছি না। তার উপর ভিক্ষা করে যেটুকু টাকাপয়সা পেয়েছিলাম, টোটোয় করে এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে আসাযাওয়া করতে গিয়ে সেটাও শেষ। আদৌও খাওয়া জুটবে কি না, জানি না।
এদিন ইন্দিরা কলোনির শুনানিকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দৃষ্টিহীন শিবেন মজুমদারকে। ভাইয়ের স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে কোনওমতে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন তিনি।
শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের সহায়তা করার জন্য এদিন হিয়ারিং সেন্টারের বাইরে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র। তাঁর তোপ, অহেতুক মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। যাঁরা উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র, তাঁদেরকেও শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে শুনানিতে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন ভাড়া করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। আবার গাঁটের পয়সা খরচ করে ট্রেনের টিকিট কেটে তাঁদের কর্মস্থলে ফিরতে হবে। আমাদের দাবি, যেসব শ্রমিক কাজ বন্ধ করে শুনানিতে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
শুনানিকেন্দ্রে ভোটারদের সহায়তার জন্য উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জলপাইগুড়ি সদর ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর মিশ্র। তাঁর অভিযোগ, হাঁটাচলা করতে পারেন না, চোখে দেখতে পারেন না, এমন লোকজনকেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ভাঙা পা নিয়ে কেউ শুনানিতে আসছেন। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েও এসেছেন এমনটাও দেখা গিয়েছে। মানুষকে হয়রান করা ছাড়া এসব আর কিছু নয়।