Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরাতন মালদহ: চেয়ারম্যান বদল নিয়ে ‘ফোঁস’ বশিষ্ঠর, তোপ রহিম বক্সিকে

নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত হজম হচ্ছে না। তাই পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান বদলের পর ‘ফোঁস’ করে উঠছেন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলার।

পুরাতন মালদহ: চেয়ারম্যান বদল নিয়ে ‘ফোঁস’ বশিষ্ঠর, তোপ রহিম বক্সিকে
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত হজম হচ্ছে না। তাই পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান বদলের পর ‘ফোঁস’ করে উঠছেন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলার।

Advertisement

ইস্তফা দেওয়ার পরই তোপ দেগেছিলেন সদ্য প্রাক্তন কার্তিক ঘোষ। এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আরেক প্রবীণ কাউন্সিলার বশিষ্ঠ ত্রিবেদী। দু’জনেরই বক্তব্য মোটামুটি এক, খারাপ ফল যদি সরানোর কারণ হয়, তাহলে জেলা থেকে সব স্তরেই আমূল বদলের প্রয়োজন আছে। বৃহস্পতিবার সুর সপ্তমে চড়িয়ে ঘুরিয়ে দলের মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সিকেই সরানোর  দাবি তুললেন বশিষ্ঠ। 
বুধবার পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হয়েছে। মুখবন্ধ খামের ভিতর থেকে বের হয়েছিল বিভূতিভূষণ ঘোষের নাম। দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাঁকে সমর্থনও জানান প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক। তবে, তাঁর গলায় শোনা যায় অভিমানের সুর। তিনি বলেন, দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা মেনে নিয়েছি। দল যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁকেও সমর্থন করেছি। কিন্তু দিনের শেষে নিজের বিবেকের কাছেই প্রশ্ন, গোটা জেলায় দলের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, অথচ শাস্তি পেলাম শুধু আমি! 
কার্তিকের পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন আরেক প্রবীণ তৃণমূল নেতা বশিষ্ট। পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলার কড়া ভাষায় জেলা সভাপতিকেও আক্রমণ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, দলে নোটতন্ত্র চলছে। অনেকে শুধু কামাইয়ের ধান্দা করছে। ভোটে হারের জন্য যদি কার্তিক ঘোষকে সরতে হয়, তাহলে সবার আগে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। কারণ জেলায় দু’টি লোকসভা আসনেই মুখ থুবড়ে পড়েছে দল।
এখানেই থেমে থাকেননি বশিষ্ঠ। নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, চেয়ারম্যান বদলের সিদ্ধান্ত  রাজ্য নেতৃত্বের হলে মুখবন্ধ খামে রাজ্যস্তরের কারও সই থাকবে। জেলা সভাপতিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুখবন্ধ খামে কার সই আছে, সুব্রত বক্সি না আপনার? কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলে বুধবার তিনি উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।  
স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন দল করলেও এভাবে কার্তিককে সরানো মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। একের পর এক কাউন্সিলারের মুখ থেকে সেই ক্ষোভই বেরিয়ে আসছে। দলীয় সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুরাতন মালদহের চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন কার্তিক। তারপর নতুন চেয়ারম্যান ঠিক করতে কেন ২২ দিন সময় লাগল, সেই প্রশ্নও এদিন তুলেছেন বশিষ্ঠ। তাঁর ইঙ্গিত, মাঝের এই সময়টা সমঝোতা করার জন্য কাজে লাগানো হয়েছে। এই বিদ্রোহী নেতার অভিযোগ,এমন সিদ্ধান্ত দেখে গায়ে লাগছে। মনেও অনেক আঘাত লেগেছে। মমতা যখন যুব কংগ্রেস করতেন, তখন থেকে সঙ্গে রয়েছি। ১৯৯৮ সাল থেকেই তৃণমূল করি। চোখের সামনে দলের নৌকা ডুবতে বসেছে। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বললে যদি বিরোধী শিবিরের মনে করে, করুক। সবার সামনে সত্য কথা বলতে কখনও পিছু হঠব না। 
রহিম বক্সি এপ্রসঙ্গে বলেছেন, ওঁর কথার কোনও উত্তর দেব না। যা বলার, দলের রাজ্য কমিটি ও রাজ্য নেতৃত্বই বলবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ