সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ২৫ অক্টোবর পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কার্তিক ঘোষ। সেই পদত্যাগ গ্রহণের জন্য খোদ ভাইস চেয়ারম্যানের বৃহস্পতিবার কাউন্সিলারদের নিয়ে ডাকা বৈঠকের বৈধতা নিয়েও বিতর্কে চরমে ওঠে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলারদের মধ্যে মতভেদও প্রকাশ্যে এসেছে। এদিকে পুরসভায় নতুন চেয়্যারম্যান এখনও পর্যন্ত বাছাই করা হয়নি। সব মিলিয়ে ওই পুরসভায় ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে মাসখানেক পরেই নতুন বছর আসতে চলেছে। এমন আবহে ওই পুরসভার জমজমাট কার্নিভাল অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর পুরসভার উদ্যোগে যেমন ঘটা করে কার্নিভাল হয়, এবারও তেমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। যদিও পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, পুরসভার ডামাডোল পরিস্থিতি রয়েছে। কার্নিভাল হবে কি না, এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুরসভা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে বেশ প্রাচীন পুরাতন মালদহ পুরসভা। কয়েক বছর আগে পুরসভার বয়স ১৫০ বছর অতিক্রম করেছে। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার উদ্যোগে ২০১৯ সালে ওই শহরে প্রথম কার্নিভাল হয়। এরপর করোনার জন্য মাঝে এক বছর কার্নিভাল বন্ধ ছিল। তারপর ফের কার্নিভাল শুরু হয়। ফি বছর বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আলোকসজ্জা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয় পুরসভা ভবন। শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার বিভিন্ন সড়ক তোরণ দিয়ে সাজানো হয়। টানা তিন দিন বহিরাগত শিল্পী দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এতে ব্যাপক ভিড় উপচে পড়ে। এবারে এখনও পর্যন্ত কার্নিভালের তারিখ স্থির হয়নি। কোন কোন শিল্পী আসবেন, সেই তালিকাও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। শহরের বাসিন্দা অমিত হালদার বলেন,প্রথম দিকে পুরসভার কার্নিভাল মঙ্গলবাড়িতে জমজমাট করে হত। পরে তাঁতিপাড়া মাঠে উৎসব স্থানান্তর করা হয়। এবার কার্নিভাল নিয়ে শহরে কোনও আলোচনা নেই। এবার কার্নিভাল হলে পুরানো জায়গাতেই করা উচিত। এতে আনন্দ বেশি হয়। পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কাউন্সিলার কার্তিক ঘোষ বলেন, পুরসভার কার্নিভাল হোক, এটা আমরা চাই। এবারও চেষ্টা করা হবে।