নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাড়ির কুয়োয় ভাসছে তেল! এনিয়ে ব্যাপক শোরগোল ডুয়ার্সের ওদলাবাড়িতে। এলাকার একাধিক বাড়ির কুয়োর জলে তেলের গন্ধ মিলছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, তেল মেশায় কুয়োর জল কালো ঝুলের মতো হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই জল খাওয়া তো দূরের কথা, গৃহস্থালীর কাজেও ব্যবহার করতে পারছেন না তাঁরা। কিন্তু কীভাবে কুয়োয় ওই তেল আসছে তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না বাসিন্দারা।
কুয়ো থেকে বালতি করে তুলে জল তুলতে পেট্রল-ডিজেলের মতো ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। খবর চাউর হতেই ভিড় বাড়ছে ওদলাবাড়ির বিধানপল্লিতে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছেন ইন্ডিয়ান অয়েলের কর্তারা। কিন্তু কীভাবে কুয়োর জলে তেল আসছে, তা নিয়ে তাঁরাও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তবে ওদলাবাড়ির আশপাশ দিয়ে ক্রুড অয়েলের পাইপ গিয়েছে। মাটির নীচ দিয়ে যাওয়া ওই পাইপে কোনওভাবে ফাটল ধরেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কুয়োর জলে তেল ভাসার কারণ জেলা প্রশাসনের কাছেও স্পষ্ট নয়।
মালবাজারের বিডিও রশ্মিদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, এখনও পর্যন্ত তিনটি বাড়ির কুয়োয় বেশি পরিমাণে তেল ভাসার খবর মিলেছে। ইন্ডিয়ান অয়েলের আধিকারিকরা সরেজমিনে বিষয়টি দেখে গিয়েছেন। তারা কুয়োর জলে তেল আসার উৎস খুঁজছেন। এখনও আমাদের কাছে রিপোর্ট আসেনি। ওই তেল কোম্পানির এক আধিকারিক বলেন, কুয়োর জলে কীভাবে তেল আসছে, তার উৎস খোঁজার চেষ্টা করছি। আশা করছি, শীঘ্রই বিষয়টি জানতে পারব আমরা। তবে যতদিন না সমস্যার সমাধান হচ্ছে,বাসিন্দাদের কুয়োর জল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
ওদলাবাড়ির বিধানপল্লির বাসিন্দা অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিল্টন ঘোষ বলেন, তেল মেশায় আমাদের কুয়োর জল খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। মাটির নীচে পাইপ ফেটে যদি তেল ছড়িয়ে পড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে ফসল, গাছপালার ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। অন্য বিপদও হতে পারে!
স্থানীয়দের দাবি, বছর তিনেক আগেও একবার ওদলাবাড়িতে বেশকিছু বাড়ির কুয়োয় তেল ভাসতে দেখা যায়। সেসময় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মাটির নীচে তেলের পাইপলাইন ফেটে হয়তো এমন ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে তখনও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সেসময় জানিয়ে দিয়েছিল, মাটির নীচ দিয়ে যাওয়া তাদের কোনও পাইপ লিক হয়নি। নিজস্ব চিত্র